ভারত নিউজ – চিরাচরিত আভিজাত্য, আতিশয্যের বাইরে গিয়ে এ এক অন্য ধরনের বিয়ে। সবটাই পরিস্থিতির কারণে তবে ভেবে দেখারও প্রয়োজন রয়েছে। ভালবাসার কাছে হার মানল করোনা। মিয়া বিবি যেখানে রাজি সেখানে করোনা করবে কি? বিয়ে সারলেন এগরা থানার অন্তর্গত পাঁচরোল গ্রামের পাত্র পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক ননীগোপাল প্রামানিকের সঙ্গে রামনগর থানার অন্তর্গত কুলবুধি গ্রামের পাত্রী রিয়া বারিক।

প্রসঙ্গত গত ৮ই মে সামাজিক বিবাহের দিন ছিল কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনের আশঙ্কায় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ডামাডোলে গত ১৮ ই মে সমস্ত প্রশাসনিক নিয়ম বিধি মেনেই মাত্র ১১জনকে নিয়েই কুলবুধি গ্রামেই বিবাহ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্কুটি করেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন পাত্র। সাধারণভাবে বউভাতের অনুষ্ঠানে ভূরিভোজের আয়োজন না করে নবদম্পতিরা এদিন পাঁচরোল গ্রামে ৫০টিরও বেশি দুঃস্থ পরিবারকে চাল,ডাল,আলু,পেঁয়াজ,তেল,সয়াবিন,সাবান বিতরণ করেন।এই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে মনে করেন নবদম্পতিরা। উল্লেখ্য ভারতবর্ষে বিবাহ নামক অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যয় বহন, এলাহী খাওয়া-দাওয়া কিছু ধনী লোকের কাছে এটা আভিজাত্যের নিদর্শন হলেও আপামর ভারতবাসীর কাছে বিশেষ করে মেয়ের বাবার কাছে এটা একটা সারা জীবনের বোঝা। সামাজিক কারণে নিয়মের অন্যথা করা সহজ নয়। জীবনের সঞ্চিত অর্থের একটা বড় অংশ খরচ হয়ে যায় এই সমস্ত সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য। করোনা সেই রীতিনীতিতে অনেকটাই বাদ সেধেছে। তবে এই সমস্ত বোঝা সেদিনই মানুষের ঘাড় থেকে নামবে যেদিন অধিকাংশ মানুষ সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সচেতন হবে। মানুষকে ভাবতে হবে উন্নত দেশগুলি উন্নত হয়েছে এই কারণে তারা তাদের উপার্জিত অর্থ সামাজিক কাজে নয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করেছে। করোনা আমাদের সেগুলো ভাবতে সহায়তা করেছে বাকিটা আমাদের কাজে করে দেখাতে হবে। চিত্র ও তথ্য সহায়তায় – প্রভাত প্রামাণিক।

স্কুটিতে চেপে নববধূ রওনা দিয়েছে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে ।