ভারত নিউজ – নিষ্ঠুর, নৃশংস, বেনজির – প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। কেরলে গর্ভবতী হাতিকে আনারসের ভেতর বাজি ভরে দেওয়া হয়, সেটি খেতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় গর্ভবতী হাতিটির মুখ ও জিহ্বা। হাতিটি খাদ্যের অভাবে বন থেকে লোকালয়ে চলে আসে তবে লোকালয়ে কাউকে আক্রমন বা ঘরবাড়ি, ক্ষেতের ফসল নষ্ট করেনি।

একটি গ্রামের লোকজন আনারসের ভেতর বাজি ভরে হাতিটিকে দিয়ে দেয় । হাতিটি সহজ মনে এবং খিদেয় সেই সঙ্গে নিজের গর্ভস্থ সন্তানটির কথা ভেবে খেয়ে নেয়। খেতে গিয়ে বিপত্তি। আনারসের ভেতর থাকা বাজিটির বিস্ফোরণ হয়ে যায়। অসহ্য যন্ত্রণায় হাতিটি জলাশয় খুঁজতে থাকে। ভেলিয়ার নদীর কাছে এসে নদীর জলে নেমে যায়। ভেবেছিল জলের মধ্যে ডুবে থাকলে তার যন্ত্রণার কিছুটা উপশম হবে। সেইসঙ্গে গর্ভস্থ সন্তানকে বাচাঁনোর জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যায়। যদিও তার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। বনকর্মীরা চেষ্টা করলেও হাতিটিকে জল থেকে তুলতে পারেনি। মৃত্যুর আগে অপরিসীম যন্ত্রণা ভোগ করে। ভাবলেই যেন গা শিউরে ওঠে, কাঁটা দিয়ে ওঠে। মানুষ যে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে তা কল্পনারও বাইরে। কি উত্তর দেব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে! আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে ইতিহাসে লেখা থাকবে একবিংশ শতাব্দীতে মানবজাতির নৃসংসতা। ঘটনাটি ঘটেছে যে রাজ্যে সেটি ভারতের শিক্ষিত রাজ্য কেরলে। শিক্ষিত মানুষ যদি এরকম হৃদয়হীন হয় দেশবাসী কার কাছে কিছু শিখবে। এই অপকর্মের জন্য সমগ্র মানবজাতির জীবজন্তুর কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া দরকার। এমনকি চূড়ান্ত ক্ষতবিক্ষত শরীরে হাতিটি কাউকে আক্রমন বা কারোর কোন ক্ষতি করেনি। এ যেন যীশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগে বলে যাওয়া ঈশ্বর তুমি ওদের ক্ষমা করো এরা জানেনা এরা কি করতে যাচ্ছে। বিশ্বজোড়া মহামারী, ঘূর্ণিঝড়, পঙ্গপালের আক্রমণ মানুষকে বুঝতে পারছে না প্রকৃতি তার পুঞ্জিভূত ক্ষোভ একটু একটু করে উগরে দিচ্ছে। যে হাতির টানে নিজের সন্তানকে নিয়ে সার্কাসে যাই, চিড়িয়াখানায় যাই সেই হাতিকেই মানুষ আজ হত্যা করতে বসেছে! কি উদ্দেশ্যে কেরলের ওই গ্রামবাসীরা বারুদ ভর্তি আনারস দিয়ে হাতিকে হত্যা করতে চেয়েছিল সেটা অনেকেই ভেবে কূল পাচ্ছে না, নিছক মজা নাকি হাতির উপর থাকা ক্ষোভ নাকি বীরত্ব প্রদর্শন। হত্যা করার এই অভাবনীয় কৌশলেও অনেকেই তাজ্জব! আদৌ কি এটা অশিক্ষিত লোকের নৃসংসতা নাকি শিক্ষিত সায়েন্টিস্ট এর উন্নত মরণফাঁদ।