২০২১ এর বিধানসভা ভোটকে লক্ষ্য রেখে রাজ্য বিজেপির নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং যুব সভাপতি বিষ্ণুপুর লোকসভার সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এছাড়া কমিটিতে স্থান পেয়েছে ভারতী ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, অর্জুন সিং, সব্যসাচী দত্ত প্রমুখরা। রাজ্য বিজেপি পুরাতন বিজেপি এবং নব্য বিজেপির মধ্যে মেলবন্ধন করেছে।

অর্জুন সিংকে সহ-সভাপতি এবং সৌমিত্র খাঁ কে যুব মোর্চার সভাপতি করা, লক্ষ্য একটাই আন্দোলনের মুখকে তুলে ধরা। একুশের বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করা অত সোজা নয়। তৃণমূলের রয়েছে সংগঠন, পুলিশ – প্রশাসন রাজ্য সরকারের অনুগত। এই অবস্থায় রাজ্য বিজেপির দরকার বাধা-বিপত্তি ও চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে সংগঠনকে বিস্তার এবং কর্মীদের আস্থা ও মনোবল অটুট রাখা। অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ অন্য দল থেকে এলেও সেই লক্ষ্যে সফল হতে পারবে বলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধারণা। তবে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা হতবাক দেবজিৎ সরকার ও দুধকুমার মন্ডল রাজ্য কমিটিতে স্থান না পাওয়ায়। রাজ্য কমিটির কোন জায়গাতেই এই দুজনকে রাখা হয়নি অথচ দেবজিৎ, দুধকুমার বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে একটা আবেগের কাজ করে। দেবজিৎ পেশায় আইনজীবী, লড়াকু নেতা। বিজেপির বন্ধ সফল করতে গিয়ে রায়গঞ্জে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, পুলিশ লকআপে নির্যাতিত হয়েছিলেন। দেবজিৎ সরকারের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও বাগ্নিতা যুবসমাজকে আবেগে ভাসিয়ে দেয় আর দুধ কুমার মন্ডল পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দলটা কে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছেন। বীরভূমে কখনো সিপিএম কখনো তৃণমূলের সঙ্গে সমানতালে টক্কর দিয়ে বিজেপির সংগঠন বিস্তার করেছেন। বাম জমানায় একবার ময়ূরেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতি বিজেপি দখল করেছিল। বাম জমানায় একবার হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল দুধকুমারের তাতেও দমে যাননি, বুড়ো হাড়ে ভেলকি দেখিয়েছেন। তবে বিজেপি একুশে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করার উদ্দেশ্যে মুকুল রায়কে কে চাণক্য হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে কিন্তু সেই মুকুল কোন কমিটিতে নেই। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি কোন কমিটিতে নেই অবশ্য শোভন এখন ঠিক কোন দলে কেউ জানেননা। সদ্য যুব সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত সৌমিত্র খাঁ আরেকটি অসাধারণ গুণের অধিকারী, তিনি প্রথমে কোতুলপুর কেন্দ্রে কংগ্রেসের বিধায়ক হয়েছিলেন এরপর বিষ্ণুপুর লোকসভা আসনে তৃণমূলের সাংসদ হন তারপর আবার ওই একই আসনে বিজেপির সাংসদ হন। এটা অন্যান্য দলের কাছে একটা প্রচারের বিষয় যদিও খুব কঠিন সময়ে কোতুলপুর আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন। গত লোকসভায় মামলার গেরোয় নিজের লোকসভা আসনে ঢুকতে পারেননি এবং প্রচার করতে পারেননি। তারপরেও জিতেছেন অনেকটাই মার্জিন নিয়ে। সুতরাং দলবদল এর তীর যতই নিক্ষেপ হোক তাঁর একটা কারিশমা সবসময় কাজ করে হয়তো সেটাই তার উত্থানের মূল কারণ। আসলে বিজেপি ঠিক কোন ছকে হাঁটতে চাইছে কারোর কাছে পরিষ্কার নয়। আন্দাজ করা হচ্ছে তৃণমূলের শক্তিশালী সংগঠন এবং পুলিশ প্রশাসনের বাধাকে উপেক্ষা করে ও প্রতিহত করে সংগঠনকে ধরে রাখতে পারবে যারা এবং যাদের একটা মুখ আছে প্রচার মাধ্যমে মূলত তাদেরকেই তুলে আনা হয়েছে। সেইসঙ্গে মুকুল রায়, দুধকুমার, দেবজিৎ সরকার এরা কোন পদে না থাকলেও সংগঠনকে নেতৃত্ব দেবে যদিও দেবজিৎ এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে তার অনুগামীদের অভিযোগ। তবে বিজেপি একটা জায়গায় এখনও অসফল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প মুখ তুলে ধরা তাই কর্মসংস্থান না হওয়া, বেকারত্ব, আইন শৃঙ্খলার অবনতি এবং অন্যান্য বিষয়ে মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এবং দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, ভারতী ঘোষ এর মত আন্দোলনের মুখকে ব্যবহার করে অনামী প্রার্থী এবং সংগঠনহীন অবস্থাতেও জিতিয়ে নিয়ে আসা এবং একেবারে নির্বাচনের আগে আগে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথদের প্রচারে নিয়ে এসে ঝড় তোলা। এছাড়া বিজেপির রয়েছে একটি আইটি সেল যা খুবই শক্তিশালী প্রতিমুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করে থাকে। তবে যতই যাই হোক তৃণমূল ও বিজেপির ৩৫ শতাংশ করে ৭০ শতাংশ ভোট বাঁধা। লড়াই হবে বাকি ৩০ শতাংশ ভোটের জন্য । যত খেলা সেখানেই। তার জন্যই চলছে দাবার ঘুঁটি সাজানো।