ভারত নিউজ – বিশ্বজুড়ে মহামারী, মানুষের মৃত্যুর মিছিল তারই মাঝে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বজুড়ে লাগামছাড়া দূষণ, বিপন্ন জীবজগৎ, সংকটে পৃথিবী এরই প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ( ডাব্লুইইডি ) প্রতিবছর ৫ জুন পালিত হয় এবং এটি আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা এবং পদক্ষেপে উৎসাহিত করার জন্য জাতিসংঘের প্রধান বাহন। ১৯৭৪ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল । বিশ্ব পরিবেশ দিবস বার্ষিক ১৪৩ টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণে জনসাধারণের কাছে পৌঁছানোর জন্য একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর, ডাব্লুইইডই একটি নতুন থিম সরবরাহ করেছে যা বড় বড় কর্পোরেশন, এনজিও, সম্প্রদায়, সরকার এবং বিশ্বব্যাপী সমস্ত সেলিব্রিটি পরিবেশগত কারণগুলির পক্ষে সমর্থন করে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এবছরের থিম বায়োডাইভারসিটি এবং ইকোসিস্টেম । জার্মানির সহযোগিতায় কলম্বিয়াতে এটি অনুষ্ঠিত হবে ।

‘জীববৈচিত্ৰ্য’ জীবিত প্ৰজাতির বৈচিত্ৰ্যতা এবং তাদের বাস করা জটিল পরিবেশ তন্ত্ৰের বিষয়ে আভাষ দেয়৷ অতি শুষ্ক মরুভূমি থেকে ক্ৰান্ত্ৰীয় বৃষ্টিপ্রবণ অরণ্য পর্যন্ত, বরফে আবৃত কঠিন পৰ্বত থেকে সাগরের গভীরে বিস্তৃত হয়ে থাকা বিভিন্ন প্ৰজাতির জীবজগতের রং, আকৃতি, আকার ইত্যাদির বিভিন্নতা থাকা সত্বেও প্ৰাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট না করে জীবন ধারণ করে আসছে৷ আমেরিকার জীব বিজ্ঞানী ই.এ.নরসে এবং তার সহযোগীদের সূত্ৰ অনুযায়ী জৈব বৈচিত্ৰ্য হল জল, স্থল সকল জায়গায় সকল পরিবেশে থাকা সকল ধরনের জীব এবং উদ্ভিদের বিচিত্ৰতা৷ পৃথিবীর ১০ বিলিয়ন ভাগের একভাগ অংশতেই ৫০ মিলিয়ন প্ৰজাতির বিভিন্ন জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের বসবাস ৷
বাস্তুতন্ত্র হচ্ছে জৈব, অজৈব পদার্থ ও বিভিন্ন জীবসমন্বিত এমন প্রাকৃতিক একক যেখানে বিভিন্ন জীবসমষ্টি পরস্পরের সাথে এবং তাদের পারিপার্শ্বিক জৈব ও অজৈব উপাদানের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে একটি জীবনধারা গড়ে তোলে।

বাস্তুতন্ত্রে যে সব উপাদান উৎপাদকের তৈরি খাদ্য উপাদানের উপর নির্ভরশীল, সেসব জীবকে খাদক বলে। খাদক তিন প্রকার – প্রথম স্তরের খাদক, দ্বিতীয় স্তরের খাদক, তৃতীয় বা সর্বোচ্চ স্তরের খাদক ।
প্রথম শ্রেণির খাদক – যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে তাদের প্রথম শ্রেণির বা তৃণভোজী জীব বলে। যেমন- ঘাস ফড়িং, মুরগি, গরু, ছাগল, হরিণ, হাতি ইত্যাদি।
দ্বিতীয় শ্রেণীর খাদক – যেসব প্রাণি তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদের বলা হয় গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক বলে। এরা মাংসাশী প্রাণী। যেমন-ব্যাঙ, শিয়াল, বাঘ ইত্যাদি।
তৃতীয় শ্রেণির খাদক – যেসব প্রাণী গৌণ খাদকদের খেয়ে বেচে থাকে তারাও মাংসাশী প্রাণী। এদের বলা যায় তৃতীয় শ্রেণির বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খাদক। যেমন- সাপ, ময়ূর, বাঘ ইত্যাদি।
একটি বিশেষ শ্রেণির খাদক জীবন্ত প্রাণীর চেয়ে মৃত প্রাণীর মাংস বা আবর্জনা খেতে বেশি পছন্দ করে। যেমন- কাক, শকুন, শিয়াল, হায়েনা ইত্যাদি। এদের নাম দেয়া হয়েছে আবর্জনাভুক বা ধাঙড় । এরা পরিবেশ পরিষ্কার রাখে।
ভারতসহ বিশ্বজোড়া লকডাউনে বাস, ট্রেন, কল-কারখানা প্রায় সব বন্ধ তাই পৃথিবী অনেকদিন আগের অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। মানুষ ঘরে, জীব রাস্তায়। কমেছে উষ্ণতা, কমেছে বাতাসে দূষণের পরিমাণ কিন্তু এটা সাময়িক। লকডাউন উঠে গেলে পৃথিবী আবার দূষিত হবে। মানুষ কি পারবে দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ে তুলতে ?
তথ্য সহায়তায় – উইকিপিডিয়া।