ভারত নিউজ – করোনা এমন একটা ভাইরাস দুই থেকে কুড়ি হাজার হতে খুব কম সময় লাগে । সে সময় যদি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরত আনা হতো সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমনে ছেয়ে যেত। তাছাড়া কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে দু’চারদিনের মধ্যে নিয়ে আসাটা অসম্ভব ব্যাপার । সেই সময় ট্রেনে ভিড় করে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরত নিয়ে এলে তাতে যদি সংক্রমণ বেড়ে যেত তখন সবাই এটাই বলতো এত তাড়াহুড়ো করে ফেরত পাঠাবার কি দরকার ছিল।

ভারতবর্ষে যে যাই করুক না কেন সেটা সরকার হোক বা ব্যক্তি তার ভুল বা সমালোচনা, বিরোধিতা করতেই হবে। তখন তাড়াহুড়ো করে আনতে গেলে সবাই অতো কম সময়ে টিকিট কাটতে পারতোনা, নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তখনই সৃষ্টি হতো। তখন করোনা পজিটিভ বা নেগেটিভ শনাক্ত হয়নি। ফলে, তড়িঘড়ি আনতে গিয়ে আরো সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হতো। তাই তখন নিয়ে এলেও সমালোচনা হতো। তখন তো ভারতবর্ষে কোন জ্ঞানী ব্যক্তি এই পরামর্শটা দেননি ।তাছাড়া ভাবা হয়েছিল একুশ দিন লকডাউন চালালে যারা সংক্রমিত তাদের আইসোলেটেড করে লকডাউন তুলে দেওয়া হবে কিন্তু লকডাউন মানুষ ঠিকমত মানেননি, পরীক্ষা ঠিকমতো হয়নি যার ফলে সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত করা যায়নি । এটা এমন একটা মহামারী আপনি একমাস আগে বুঝতে পারবেন না আগামী এক মাস পরে কি পরিস্থিতি হতে পারে। সরকার আমরা কেউ জ্যোতিষী নয়। আপনি বা আপনার পরিচিত ব্যাক্তিরা কেউ কি তখন বলেছিলেন সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিককে ফেরত পাঠিয়ে তারপর লকডাউন করা হোক । তাছাড়া কেন্দ্র সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরত যেতে বলেনি রাজ্য সরকারগুলো দাবি করেছিল সেই প্রেক্ষিতে কেন্দ্র বলেছিল রাজ্য সরকার চাইলে নিজ দায়িত্বে ফেরত নিয়ে যেতে পারে। কেন্দ্র অনুমতিটা দিয়েছিল । পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্র সরকার ও সেই রাজ্যের রাজ্য সরকার যৌথভাবে রেশনের ব্যবস্থা করতে পারতো । তাহলে তাদের ওখানে এতো সমস্যায় পড়তে হতোনা। সেইসঙ্গে একটা আর্থিক সাহায্যও করতে পারতো। এখানে আরো একটি প্রশাসনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে কোনও সরকারের কাছে কোনও তথ্য নথিভুক্ত নেই ভিন রাজ্যে যারা কর্মরত রয়েছে। তারা বাইরে কাজে গিয়ে কোনও সমস্যা হলে হদিস পাওয়া যাবেনা।
তবে, সেসময় তড়িঘড়ি লকডাউন না করলে পরিস্থিতি তখনই আয়ত্তের বাইরে চলে যেতো। সেটা ছিল একেবারে প্রাথমিক পর্ব। করোনাকে একেবারে প্রাথমিক পর্বে আটকাতে নাপারলে হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে। সকলকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে লকডাউন করলে এপ্রিলের মাঝামাঝি চলে যেতো। তখনকে সব শেষ হয়ে যেতো। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের বাড়ি ফিরে আসার উপরে জোর না দিয়ে তাদের সেই রাজ্যে রেশন, খাদ্য, আর্থিক সাহায্যের উপর জোর দিতে পারতো। তাহলে, ভারসাম্য বজায় রাখা যেতো।