ভারত নিউজ – লকডাউন এখনও পুরোপুরি ওঠেনি। যানবাহন অর্ধেকও স্বাভাবিক হয়নি কিন্তু খুলে গিয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস তাতেই সমস্যায় লক্ষ লক্ষ সরকারি-আধাসরকারি, বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরতরা। যখন অফিস বন্ধ ছিল সমস্যা হয়নি কিন্তু এখন তো অফিস খুলে গিয়েছে আপাতত বড়জোর একটু দেরিতে অফিসে গেলে হবে কিন্তু যেতে তো হবেই। কলকাতার রাস্তায় সাইকেল চলার অনুমতি নেই।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার চিন্তাভাবনা করছে কলকাতার রাস্তায় সাইকেল চালানো যায় কিনা। তার জন্য পৃথক রুট করা হবে। উল্লেখ্য দেশের অন্যান্য বড় শহরে সাইকেল চলার অনুমতি রয়েছে। কলকাতায় শুধু পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা ভেবে নয় স্থায়ীভাবে সাইকেল চলার অনুমতি দেওয়া হোক এবং তার জন্য ফুটপাথের পাশে সাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট একটা সীমানা করা হোক যে রাস্তায় মানুষ বা বড় গাড়ি ঢুকবেনা এবং সাইকেল নিজের সীমানা পেরিয়ে বড় রাস্তায় প্রবেশ করবেনা। আপাতত কলকাতার রাস্তায় সাইকেল চালানোর ব্যবস্থা করলে যানবাহনের যে ঘাটতি রয়েছে সেটা অনেকটাই সামাল দেওয়া যাবে, যানবাহনে ভিড় কম হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে। সাইকেল পরিবেশবান্ধব, মানুষ সাইকেলে অভ্যস্ত হয়ে উঠলে পরিবেশ দূষণ অনেকটাই কমবে। তাছাড়া স্থায়ীভাবে সাইকেল চালানোর অনুমতি ও রুট করলে আরো অনেক দিক থেকেই তিলোত্তমা কলকাতা উপকৃত হবে। নিম্ন আয়ের বা মধ্য আয়ের মানুষেরা নিখরচায় কলকাতার মধ্যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবে। কলকাতায় লক্ষ লক্ষ এরকম মানুষ রয়েছে যারা মাসে পনেরো থেকে কুড়ি হাজার টাকার মধ্যে আয় করে তারা তাদের যাতায়াত বাবদ খরচ অনেকটাই কমাতে পারবে। কলকাতা মারাত্মকভাবে দূষণের শিকার।

লকডাউন এর ফলে এই দূষণ অনেকটাই কমেছে, উঠে গেলেই আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসবে। সাইকেল চললে এই দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তাছাড়া সাইকেল চালালে মানুষের নিয়মিত শরীর চর্চা হবে, ছেলেরা এবং মেয়েরা স্কুল জীবন থেকে সাইকেলে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হবে। তাদের স্কুলে যাতায়াতের সুবিধা হবে। সবুজ সাথী প্রকল্পে ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দেওয়া হয় তারা যাতে এই সাইকেল তাদের বিদ্যালয় এবং টিউশন এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। তবে অবশ্যই সাইকেলের জন্য রাজপথের ধারে রুট নির্দিষ্ট করতে হবে। মূলত দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাতেই কলকাতার রাস্তায় সাইকেল এর অনুমতি দেওয়া হয়নি এতদিন তবে সাইকেল চললে কলকাতার রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের দীর্ঘকালের যে সমস্যা রয়েছে সেটা অনেকটা দূর করা যাবে । মানুষ নিজের সময় মেকআপ করতে পারবে।