ভারত নিউজ – মার্চের মাঝামাঝি থেকে চলছে লকডাউন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ বন্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া যাতে না স্তব্ধ হয়ে যায় বিভিন্নভাবে বিকল্প ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি উদ্যোগে টিভি চ্যানেলে ক্লাসের ব্যবস্থা হয়। বেসরকারি চ্যানেলগুলি নিজ উদ্যোগ নিজেদের টিভি চ্যানেলে ক্লাসের ব্যবস্থা করে। বিভিন্ন প্রকাশনী সংস্থা অ্যাপের মাধ্যমে ক্লাসের ব্যবস্থা করে। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং শিক্ষক সংগঠনগুলোও অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অনলাইন ক্লাসের খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। আসলে লকডাউনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রমাণিত হয়েছে স্থায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থায়ী শিক্ষকের বিকল্প অনলাইন ক্লাস, ভার্চুয়াল ক্লাস, সহায়িকা বই, অ্যাপস নয় এর কারণ ভারতবর্ষের অধিকাংশ জায়গা গ্রাম সেগুলো এখনও অতটা উন্নত নয়।

ইন্টারনেট ব্যবস্থা দুর্বল। ভারতবাসী অনলাইন ক্লাসের সাথে এখনও অতটা অভ্যস্ত নয়। স্মার্ট ফোন এখনও অনেকের হাতে নেই বিশেষ করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে স্কুলের ছেলে মেয়েদের ক্লাস করা এটা এখনও পর্যন্ত প্রচলিত নয়। এর থেকে আমাদের একটা শিক্ষা নিতে হবে স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষিকার পদ শূন্য পড়ে থাকলে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ায় বিঘ্ন ঘটে। সেই সঙ্গে স্কুলের পঠন -পাঠন ও পরিকাঠামো আরো উন্নত করতে হবে। তবে অনলাইন ক্লাসের মূল সমস্যাটা হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে নিয়ম মেনে ক্লাস হচ্ছেনা, বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন শিক্ষক বিভিন্ন অধ্যায় থেকে ক্লাস করাচ্ছেন, কেউ কেউ প্রথম অধ্যায় পড়াচ্ছেন অথচ মার্চের মাঝামাঝি ক্লাস বন্ধ হয়। প্রতিটি ক্লাসের প্রতিটি বিষয়ের প্রথম দুটি অধ্যায়ের পড়ানো শেষ হয়ে গিয়েছে প্রায় সব স্কুলে। তাছাড়া মোবাইলের ছোট স্ক্রিনে আর যাই হোক ক্লাসের পড়া হয়না, ট্যাব বা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এখনও বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে স্বপ্ন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রজেক্টারের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করালে সেটা সফল হতে পারে কিন্তু শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষক শিক্ষিকার প্রত্যক্ষ সাহায্য ছাড়া পড়াশোনা হয়না সেটা প্রমাণিত। সামান্য কিছু অভিভাবক-অভিভাবিকা নিজ দায়িত্বে মোবাইলের মাধ্যমে বাচ্চাদের অনলাইন ক্লাস করাচ্ছেন কিন্তু ব্যতিক্রমীটা ব্যতিক্রমীই । অ্যাপ এর মাধ্যমে ক্লাস হলে সেখানে কিছুটা ধারাবাহিকতা থাকে কিন্তু ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত অনলাইন ক্লাসে কোনও ধারাবাহিকতা ও পরম্পরা নেই। নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ নাহলে শুধু শিক্ষিত কর্মপ্রার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা নয় ছাত্র ছাত্রীরাও ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় । হয়তো কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের নিজ দায়িত্বে পড়ার দায়িত্বটা আছে কিন্তু স্কুলের ছেলেমেয়েদের সেই বোধটা এখনও জাগরিত হয়নি তাই যতক্ষণ না শিক্ষক-শিক্ষিকা পড়া দিচ্ছেন নিজে থেকে পড়তে চায়না। যারা বলে থাকেন ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থা অনলাইন ও ভার্চুয়াল হয়ে উঠবে তারা কল্পনাবিলাসী ও ও ভাববাদী বাস্তববাদী নয় ।