ভারত নিউজ- লকডাউন পুরোপুরি এখনও ওঠেনি, সামাজিক জমায়েত করা যাবেনা, পরিবহন ব্যবস্থা এখনও সচল হয়নি তাই প্রকাশ্যে জনসমাবেশ আপাতত করার প্রশ্নই নেই। এখন রাজনৈতিক দল, নেতারা যেটুকু বক্তব্য রাখছেন সাংবাদিক সম্মেলনে, ফেসবুক লাইভে, সোশ্যাল মিডিয়ায়। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সদ্য করলেন ভার্চুয়াল সভা যে সভা পুরোপুরি স্মার্টফোনের স্ক্রীনে, এলইডি টিভির স্ক্রীনে।

এখানে বক্তা এবং শ্রোতা উভয়েই থাকবে স্ক্রীনের পর্দায়, যেকোনো প্রান্ত থেকে এই ভার্চুয়াল সভা দেখা যাবে ও শোনা যাবে। যাদের স্মার্টফোন নেই তারা একটি নম্বরে মিসকল দিয়ে শুনতে পারবে তবে এই সভার বিরুদ্ধে বামেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় ও অমিত শাহ গো ব্যাক স্লোগান দেয়। গো ব্যাক স্লোগানটা ভারতীয় রাজনীতিতে অতি পরিচিত। কোন দলের কোন নেতা এলে বা সরকারের কোন মন্ত্রী এলে গো ব্যাক স্লোগান দেয় বিরোধীদলের কর্মীরা অর্থাৎ ফিরে যাও। সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র একবার বলেছিলেন আমাকেও অনেকবার শাসকদলের কর্মীরা গো ব্যাক স্লোগান দিয়েছে তবে কখনও সভায় যাওয়ার সময় আবার কখনও সভা থেকে ফেরার সময় গো ব্যাক স্লোগান দিয়েছে। আমি তাদের বলেছিলাম আমি তো এমনিতেই ফিরছি। তবে ভার্চুয়াল সভার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে গো ব্যাক অনেকের কাছেই হাসির বিষয় হয়ে উঠছে। যে ব্যক্তিটি রাস্তাতেই নেই তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে গো ব্যাক বিষয়টা কোনওভাবে বিশ্লেষণ করা যাচ্ছেনা। একটি গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ সভা-সমাবেশ করতে পারে যেহেতু করোনা সংক্রমণের একটি বিষয় আছে তাই সভাটি মানুষের জমায়েত না করে ভার্চুয়াল অর্থাৎ অনলাইনে করা হয় এতে বামেদের সমস্যাটা কোথায়? তারা পাল্টা অনলাইনে সমাবেশ করে বা লাইভ করে উত্তর দিতে পারতেন। আসলে তাদের সমস্যাটা কি, বক্তব্যটা কি, উদ্দেশ্যটা কি তারা নিজেরাও জানেনা। অমিত শাহের বক্তব্যে আপত্তি না সভা করাতে আপত্তি কিন্তু আদতে এই সমস্ত আপত্তি বা গো ব্যাক স্লোগান এর কোনও গুরুত্ব নেই। সুজন চক্রবর্তীও তো ফেসবুক লাইভে আসেন। মানুষজন শোনেন। কোনও দল তো রাস্তায় নেমে গো ব্যাক স্লোগান দেয়নি। তাছাড়া ভার্চুয়াল সভার আর একটা ভালো দিক আছে বিশেষ কোনও খরচ ছাড়াই করা যায়, রাস্তাঘাটে জনসমুদ্র হয়না, বাসের ঘাটতি হয়না, মাঠ ময়দান নোংরা হয় না, শব্দ দূষণ হয়না। বামপন্থীরা ভারত সীমান্তে চীনের আগ্রাসন, সাম্রাজ্যবাদী নীতি, ভাইরাস ছরিয়ে বিশ্বজুড়ে ধ্বংসলীলা প্রভৃতি কুকীর্তির বিরুদ্ধে একটি শব্দ এখনও পর্যন্ত খরচ করেনি। একটি সভাও করেনি অর্থাৎ তাদের কি ঘোষিত নীতি চীন ভারতবাসী বা বিশ্ববাসীর পক্ষে বিপজ্জনক হলেও আগে কমিউনিস্ট তারপর মানবতা।

মানবজাতি থাকুক না থাকুক কমিউনিস্টকে আগে বাঁচাতে হবে তার জন্য চীনের বিরুদ্ধে নীরব থাকতে হবে। এছাড়া অমিত শাহের সভার বিরুদ্ধে রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিলে একটি প্ল্যাকার্ড দেখা যায় – ভাত দে। রেশনে তো প্রতি মাসে মাথাপিছু পাঁচ কেজি করে চাল বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা এগিয়ে এসেছে দুঃস্থদের সাহায্য করার জন্য। সমস্ত বৈধ রেশনকার্ডধারী রেশন পাচ্ছে এরপরেও ভাত দে কথাটা শুনতে খারাপ লাগে। ওনাদের সময়ে জঙ্গলমহলে মানুষ খেতে পেতনা, ওনাদের পঞ্চায়েত সদস্য কৈলাস মুড়া একথা বলেছিলেন। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক দলগুলির সম্পদের নিরিখে সিপিআইএম বিজেপি, কংগ্রেস এর পরেই। চৌত্রিশ বছরে মানুষকে ভাত দিতে পারেননি এখন শ্লোগান তুলেছেন ভাত দে তাহলে কি বামফ্রন্ট চৌত্রিশ বছরে শুধু বড় বড় পার্টি অফিস বানিয়েছে । বন্যার সময়ে ওনাদের বিরুদ্ধে দলবাজির অভিযোগ আসতো ।