ভারত নিউজ – করোনা মহামারীতে আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে মনে হতে পারে ভারতের পরিস্থিতি বিপজ্জনক। ভারত প্রথম দশে স্থান করে নিয়েছে, চীনকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, ইতালিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে কিন্তু গভীর ভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে তা নয়। ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৩৩ কোটি আবার চীনের আয়তন ভারতের থেকে অনেক বেশি। আয়তনের তুলনায় ভারতের জনসংখ্যা এত বেশি যে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে জনঘনত্ব অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। জনঘনত্ব বেশি হলেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে কিন্তু তারপরেও ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও জনসংখ্যার নিরিখে অনেক কম। তাছাড়া ভারতে করোনাতে মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এখানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সুস্থ হয়ে যাওয়ার সংখ্যাটাও অনেক বেশি তাই অহেতুক ভারতের পঞ্চম স্থান, ষষ্ঠ স্থান এগুলো নিয়ে ভীত হওয়ার কারণ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিরা অধিকাংশই সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে তবে সবার আবার করোনার কারণ মৃত্যু কিনা সেটা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা, অন্য কারণেও হতে পারে। ভারতের জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব এত বেশি যে লকডাউন চলাকালীন অত্যাবশ্যক পণ্যের কেন্দ্রগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের জমায়েত হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তারপরেও গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়নি।

এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের অধিকাংশেরই নমুনা পরীক্ষাতে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। ভারতীয়দের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। রোদে, মাঠে-ঘাটে কাজ করার জন্য প্রতিরোধ ক্ষমতাটা বেশি হয়েছে, করোনা প্রতিরোধে সম্ভবত এটা সহায়ক হয়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিদেশের মত অত উন্নত নয় তারপরেও আমাদের চিকিৎসকেরা এক লক্ষেরও বেশি মানুষকে সুস্থ করে তুলেছে তবে এতদিন লকডাউন চলেছে এখনো আংশিক লকডাউন চলছে, পুরোপুরি লকডাউন উঠে গেলে কি হবে এখনই বলা যাচ্ছেনা তাছাড়া আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই, লড়াই এখনও অনেক বাকি। কিন্তু লড়াই করলে আমরা করোনাকে হারাতে পারবো এটা প্রমাণিত এরপর বাকিটা দেশবাসীর সদিচ্ছার উপরে নির্ভর করছে। আগামী দিনে ভারতবাসী কতোটা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে, মুখে মাস্ক পরবে, হাতে গ্লাভস পরবে সেটা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে তবে ইতিমধ্যে একটা বড় অংশের মানুষ মুখে, হাতে কোন কিছু না পরেই রাস্তাঘাটে যাতায়াত শুরু করেছেন। লকডাউন এবার আনলক এর দিকে যাবে সেক্ষেত্রে সরকারকে গণপরিবহন ব্যবস্থা আরো ভালো করতে হবে কারণ গণপরিবহন যথাযথ থাকলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব এবং জমায়েত এড়ানো সম্ভব। এসময় আরেকটা বিষয় দেখা গিয়েছে সরকার, রাজনৈতিক দল, ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, পুলিশ, ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় দুঃস্হ, ভবঘুরে, অসহায় মানুষকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করেছে। ক্রমশ স্বার্থপর হয়ে যাওয়া সমাজে এটা একটা অকস্মাৎ জেগে ওঠা বিবেকবোধ, একতা যেটা ভাবা হয়েছিল লকডাউনে অনাহার একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে কিন্তু ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত ছাড়া হয়নি। করোনাতে ভারতের অবস্থা কিরকম একটা সাধারণ উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে অন্যান্য দেশে দশজন নাগরিকে আক্রান্তের সংখ্যা তিনজন ভারতে পঞ্চাশ জন নাগরিকে আক্রান্তর সংখ্যা পাঁচজন। তবে, এতদিন ছিল করোনাকে আটকে দেওয়ার লড়াই এখন হয়েছে করোনাকে সঙ্গে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই হয়তো এই লড়াইটা আরো কঠিন ।