ভারত নিউজ- সদ্য বাংলা অভিধানে একটি নতুন শব্দ এসেছে পরিযায়ী শ্রমিক। করোনা, লকডাউন প্রভৃতি প্রেক্ষিতে বাংলার যে সমস্ত শ্রমিকেরা ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আটকে পড়েছিলেন বর্তমানে বিশেষ ট্রেনে করে ফিরে আসছে তাদেরকেই বলা হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিক। পরিযায়ী কথাটি নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলছে। কথাটি একটি বিতর্কিত শব্দে পরিণত হয়েছে। পরিযায়ী কথার অর্থ হলো যারা কোন বিশেষ সময়ে আসেন, স্থায়ী বাসিন্দা নন। পাখির ক্ষেত্রে পরিযায়ী কথাটি খুব ব্যবহৃত হয় কারণ কিছু পাখি রয়েছে যারা শীতকালে বা বসন্তকালে ভিন রাজ্য, ভিনদেশ থেকে এসে থাকে।

বিখ্যাত সাঁতরাগাছি ঝিলের নাম আমরা শুনেছি। শীতকালে ভিনদেশ থেকে কিছু পাখি এখানে আসে এদের বলা হয় পরিযায়ী পাখি কারণ এই পাখিগুলি সাঁতরাগাছি ঝিলে সব সময় থাকেনা, বছরের একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে কিছুদিনের জন্য আসে এবং তারপর আবার চলে যায়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহু মানুষ কাজের খোঁজে চেন্নাই, গুজরাট, মুম্বাই, হায়দ্রাবাদ, কেরালা, দিল্লি সহ বিভিন্ন রাজ্যে গিয়েছে। অনেকে নেপাল, দুবাই, ইরাক, ইরান প্রভৃতি দেশেও গিয়েছে তারা কিন্তু কাজ করতে গিয়ে ওই জায়গার বাসিন্দা হয়ে যায়নি তারা বাংলারই নাগরিক। তারা কাজের জন্য বাইরে গিয়েছে, মাঝে মাঝে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে মাটির টানে, স্বজনদের কাছে। গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়নে এক জায়গার মানুষ আরেক জায়গায় যাবে, পণ্য এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবে এটাই বৈশিষ্ট্য। আন্তর্জাতিকতাবাদের মাধ্যমে একস্থানের সংস্কৃতি আরেক জায়গায় যাবে এটাই নিয়ম। আবার এক জায়গার মানুষ আরেক জায়গায় কাজে না গেলে অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবেনা কারণ বাইরে থেকে যত টাকা আসবে রাজ্যের অর্থনীতিও ততো সমৃদ্ধ হবে। ওই টাকায় তাদের স্বজনরা পালিত হবে, ব্যবসায়ীরা সমৃদ্ধ হবে আবার বহু ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে যারা ভিন রাজ্যে বড় শিল্পে মোটা মাইনের বেতনে কর্মরত, ছুটি পেলে মাঝে মাঝে রাজ্যে ফিরে আসে যেহেতু তারা এ রাজ্যেরই নাগরিক ; ভোটার, রেশন সবকিছুই এই রাজ্যের সেহেতু তাদের পরিযায়ী না বলে ভিন রাজ্যে কর্মরত বলাটাই সঙ্গত।