ভারত নিউজ – মহামারী এবং লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বহু চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ করেছিলেন। একই পথ নিয়েছিলেন গ্রামীণ চিকিৎসকরা। গ্রাম বাংলা এমনকি আধা শহরেও কোটি কোটি মানুষ এই গ্রামীণ চিকিৎসকদের উপরে নির্ভরশীল। সংক্রমনের এড়াতে এবং নিজেদের জীবন সুরক্ষিত করতে গ্রামীণ চিকিৎসকেরা রোগী দেখা বন্ধ করে দেন।

চেম্বারে গেলে দূর থেকে রোগী দেখে ওষুধ দিয়ে দিতেন। অনেকে চেম্বারেই বসতেননা। গ্রামীণ চিকিৎসকদের মূলত রাতে ভিতে আপৎকালীন সময়ে বাড়িতে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা করার জন্য ডাক পড়তো। পাশ করা ডাক্তারেরা শহরমুখী তারা কেউ পাস করে গ্রামে থাকেননা এই কারণেই গ্রাম বাংলা গ্রামীণ চিকিৎসকদের উপরে এতটা নির্ভরশীল কিন্তু যেহেতু গ্রামীণ চিকিৎসকদের কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই, স্বাস্থ্য বীমা নেই তাই নিজেদের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য তারা ঝুঁকি না নিয়ে চিকিৎসা থেকে সাময়িক সরে যায় কিন্তু মানুষ যাবে কোথায়, তাহলে কি মানুষ বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকবে! যেহেতু সরকার গ্রামবাংলায় স্থায়ী এবং পাশ করা চিকিৎসক নিয়োগ করতে পারেনি যেহেতু সরকার গ্রামীণ চিকিৎসকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং পিপিই, স্বাস্থ্য বীমা প্রভৃতি দিয়ে তাদের একটা নিরাপত্তা দিক যাতে মানুষের চিকিৎসা অবহেলিত না হয় এমনকি রোগীকে একটা ইনজেকশন দেওয়ার জন্যও কাউকে পাওয়া যাচ্ছেনা। স্বাস্থ্য পেশার সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদের এই পেশায় আসার আগে এটুকু তাদের ভাবা উচিত ছিল। সংকটের সময়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে পারবেতো। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সৈনিক পালিয়ে গিয়ে রণে ভঙ্গ দিতে পারেনা তেমনি মহামারীর সময়ে চিকিৎসক নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য বাড়ির দরজায় খিল দিতে পারেনা। এটা দুর্বল চিত্ততার লক্ষণ। বীর সৈনিক প্রতিপক্ষের সম্মুখীন হয়ে মোকাবিলা করে। প্রকৃত চিকিৎসক জীবাণুকে প্রতিহত করে। রোগের ভয়ে চিকিৎসক পালায়না চিকিৎসকের ভয়ে রোগ পালায় ।