ভারত নিউজ – বারবার আহ্বান করা হচ্ছে চায়না পণ্য বর্জন করুন । প্রত্যেকের মনে একটা প্রশ্ন আসতে পারে সরকার তো চায়না পণ্য ভারতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিতে পারে কেন সেটা করছেনা তাহলে তো ক্রয় বিক্রয় দুটোর কোন জায়গাই আর থাকবেনা। ভারত ডবলিউ টি ও অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের সদস্য। এই চুক্তি বা সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত থাকলে ভারতের পণ্য সংগঠনভুক্ত দেশগুলি তাদের দেশে আমদানি বা বিক্রি বন্ধ করতে পারবে না তেমনি ভারতও চীন বা অন্য কোনও দেশের যারা ডব্লিউ টি ওর অন্তর্ভুক্ত তাদের পণ্য ভারতে আমদানি বা বিক্রয় নিষিদ্ধ করতে পারবেনা আবার ডব্লিউটিও থেকে বেরিয়ে গেলে বা এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত না থাকলে ভারতের ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারিত হবেনা। কৃষক ব্যবসায়ী সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে কারণ এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে বাইরের জগতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কেউ বেঁচে থাকতে পারেনা কিন্তু আমরা চাইলে চায়না পণ্য বর্জন করতে পারি।

বর্জন করতে হবে আমাদের নিজের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে। ভারতের বাজার চীনের জন্য সবচেয়ে বড় বাজার। চায়না পণ্য ব্যবহার করা মানে নিজের অজান্তে আমাদের শরীরে স্লো পয়জন প্রবেশ করানো। চিন তার ব্যবহৃত পণ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলে তার প্রযুক্তির দ্বারা কিন্তু এর ফলে যে পণ্য উৎপাদিত হয় সেটা অতি নিম্নমানের এবং দূষণ ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট। এমনকি ব্যবহৃত কনডোম দিয়ে তৈরি হয় বাচ্চার খেলনা যা আপনার বাচ্চার শরীরে আপনার অজান্তে প্রবেশ করাবে বিষ। এছাড়া চায়না ইলেকট্রনিক সামগ্রী যেগুলো বাচ্চার খেলনা হিসেবে তৈরি হয় তাতেও থাকে বিষাক্ত ধাতু হয়তো আমাদের বড়দের শরীর সেই ধাতুর বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করতে পারবে কিন্তু আপনার শিশুর শরীরে সেই বিষ প্রতিরোধ করার মত ক্ষমতা এখনও গড়ে ওঠেনি। এরপর সিদ্ধান্ত নিন আপনার বাচ্চাকে চায়না খেলনা দেবেন? চীন ভারতে ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা অর্জন করে সেই টাকায় যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করে ভারতের ওপর প্রয়োগ করতে পারে, আমাদের শত্রু দেশ পাকিস্তানকে রসদ ও মদত যুগিয়ে যাচ্ছে চীন। ভারতের দীর্ঘ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে চীন। আমরা দীপাবলিতে চায়না বাতি না জ্বালিয়ে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালালে আমাদের দেশীয় কুটির শিল্প রক্ষা পাবে। আমাদের অর্থনীতি বাঁচবে তবে এক্ষুনি একশো শতাংশ চায়না পণ্য বর্জন করা সম্ভব নয় ধাপে ধাপে করতে হবে যেখানে চায়না পণ্যের বিকল্প ভারতীয় পণ্য রয়েছে সেখানে আমরা চায়না পণ্য বর্জন করতে পারি। আমেরিকা জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকির ওপর পরমাণু বোমা বর্ষণের পর জাপানিরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমেরিকান পণ্য ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছিল। চীন ভারতের বিরুদ্ধে সহজে যুদ্ধ করবেনা, একটু জল মেপে দেখল প্রত্যুত্তর পেয়েছে। এখন আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে চায়না পণ্য বর্জন করি অর্থাৎ যেখানে চায়না পণ্যের বিকল্প রয়েছে অর্থনৈতিক দিক থেকে চাপে পড়ে যাবে চীন। আগ্রাসন ও পাকিস্তানকে মদত দেওয়া বন্ধ করবে। একটি দেশকে গড়ে তুলতে ও পরিবর্তন করতে পারে সেই দেশের নাগরিকেরা।