ভারত নিউজ – ভারত যখন স্বাধীনতা লাভ করে তার আগে ভারতের সীমান্ত নির্ধারণের জন্য কয়েকটি কমিশন গঠিত হয়েছিল । পাকিস্তান , চীন, আফগানিস্তানের সীমান্ত নির্ধারণের জন্য পৃথক পৃথক কমিশন গঠিত হয়েছিল কিন্তু এই সমস্ত কমিশনের সদস্যদের ভারতের সীমানা সম্পর্কে, প্রতিবেশী দেশ সম্পর্কে , দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া সম্পর্কে বিশেষ কোনও ধারণা ছিলনা এবং তারা সব জায়গা নিজেরা ঘুরেও দেখেননি । মানচিত্রের ওপর নির্ভর করে বহু সীমানা গঠিত হয়েছিল । সেই সঙ্গে ব্রিটিশরা যাদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করেছিল তাদের অনেকেরই দেশের প্রতি কোনও ভালোবাসা ছিলনা কোনওক্রমে দেশের ক্ষমতাটা ইংরেজদের হাত থেকে পেলেই হল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তারা ক্ষমতায় এলেও দেশকে এবং দেশের সীমান্তকে জটিলতামুক্ত ও সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেননি। অপরদিকে ইংরেজরা তখন দেখেছিল ভারত ছেড়ে যখন চলে যেতে হবে কোনওক্রমে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দিলেই হবে। এভাবে চির সমস্যাযুক্ত হয়ে ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল।
আকসাই চীন হল ভারত ও চীন এর মধ্যেকার এক বিতর্কিত অঞ্চল।ভারতের মতে এটি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখের অংশ।অপর পক্ষ চীন এর মতে, আকসাই চীন তাদের জিংজিয়াং প্রদেশের অংশ।এই অঞ্চলটির আয়তন ৩৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার।১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের আগে আকসাই চীন ভারত এর লাদাখের অংশ ছিল। যুদ্ধের পর অঞ্চলটি চীন এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।এই অঞ্চল নিয়ে এখনও ভারত ও চীনের মধ্যে বিবাদ রয়েছে।আকসাই চিন– এর “চিন” শব্দটির অর্থের ব্যাপারে সঠিক কোন ধারণা পাওয়া যায়না। তুর্কিক ভাষা বংশের একটি শব্দ হিসাবে, আক্ষরিকভাবে “সাদা শ্বেতকোণ” বলে বোঝায় কিন্তু চিন শব্দটির অর্থ চীনের ক্ষেত্রে বিতর্কিত। এটি চিনের জনগণের জন্য নির্বাচিত চীনা অক্ষরগুলির দ্বারা গঠিত ,যা চীনা ভাষায় শব্দটির অর্থ ব্যতিরেখে।

১৯৫০-এর দশকে,গণপ্রজাতন্ত্রী চীন জিনজিয়াং এবং পশ্চিম তিব্বতকে সংযুক্ত করে ১২০০কিলোমিটার (৭৫০ মাইল) রাস্তা তৈরি করেছিল, যার মধ্যে ১৭৯ কিলোমিটার (১১২ মাইল) জনসন লাইনের দক্ষিণে ভারতের দাবী আকসাই চিন অঞ্চল দিয়ে গেছে। আকসাই চিন চিনাদের কাছে সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য ছিল তবে কারাকোরামগুলির ওপারে ভারতীয়দের পক্ষে পৌঁছানো আরও কঠিন ছিল। ভারতীয়রা ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত এই সড়কের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারেনি, যা ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত চীনা মানচিত্রে রাস্তাটি দেখানো হলে নিশ্চিত হয়েছিল।

৫০০০ মিটার (১৬,০০০ ফুট) উচ্চতার কারণে, আকসাই চিনের ধ্বংসস্থানগুলি দেখে বোঝা যায় যে এটি প্রাচীন বাণিজ্য পথ ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা, যা গ্রীষ্মকালে জিনজিয়াং ও তিব্বতের কার্নিভালের জন্য একটি অস্থায়ী পাস বা গিরিপথ ছিল। সামরিক অভিযানের জন্য, এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছিল, কারণ তারিম উপত্যকার থেকে তিব্বত পর্যন্ত একমাত্র পথ ছিল যা সারাবছর ধরে কার্যকর ছিল। দিজুঙ্গার খান ১৭১৭ সালে তিব্বতে প্রবেশের জন্য এই রুটটি ব্যবহার করেছিলেন। চীনের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি, আকসাই চিনের বাসিন্দাদের অধিকাংশ অংশই বকরওয়ালের মতো ভ্রাম্যমান গোষ্ঠীর সদস্য যারা নিয়মিতভাবে এলাকার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে। পরিচিত বসতিগুলি হল টিয়ানশুইহাই শহর এবং তিলংঘন গ্রাম।

প্রধানমন্ত্রী নেহেরুর বক্তব্য অনুসারে আকসাই চিন "বহু শতাব্দী ধরে ভারতের লাদাখ অঞ্চলের অংশ" এবং এর উত্তর সীমান্তটি সুনির্দিষ্ট ছিল যা কারও সাথে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত ছিল না"।
চীনা মন্ত্রী ঝো এন লাই যুক্তি দিয়েছিলেন যে পশ্চিম সীমান্তটি কখনই সীমানা হয়নি, ম্যাকার্টনি-ম্যাকডোনাল্ড লাইন, যা চীনা সীমান্তের মধ্যে আকসাই চিন ছেড়েছিল, কেবলমাত্র চীন সরকারকে প্রস্তাব করেছিল এবং আকসাই চিন ইতিমধ্যে চীনা অধীনে ছিল ।
এই অঞ্চলটি প্রায় জনবসতিহীন এবং কোন সম্পদ না থাকা সত্ত্বেও, এটি তিব্বত এবং জিনজিয়াংকে সংযুক্ত করার কারণে এটি কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫১ সালে নির্মাণ শুরু হয়েছিল এবং রাস্তাটি ১৯৫৭ সালে শেষ হয়েছিল। এই হাইওয়েটি নির্মাণ ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের অন্যতম উপলক্ষ।
ইতিহাস বলছে রাজনৈতিক এবং রাষ্ট্রনৈতিক দ্বন্দ্বের উপলক্ষটা খুব সামান্য ব্যাপার থেকে সৃষ্টি হয়। দুটি দেশের সামান্য ভূখন্ড দুটি দেশের মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টি করে। সেই তিক্ততা থেকে গোলাগুলি চলে এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং দু’টি দেশের যুদ্ধে কখনো কখনো বিশ্বের অন্যান্য দেশ নিজ নিজ পক্ষে যোগ দেয়। এভাবেই যুদ্ধ বৃহৎ আকার ধারণ করে তবে আপাতত ভারত এবং চীন কোন দেশই এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশও যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে নেই কারণ করোনাভাইরাস শক্তিশালী এবং দুর্বল সকলকেই অর্থনৈতিক, মানবিক, মানসিক দিক থেকে দুর্বল করে দিয়েছে তবে একটা কথা আছে প্রতিবেশী ভালো হলে মানুষ সুখে থাকে কিন্তু ভারতের প্রতিবেশী চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মত দেশ আছে যা ভারতের সুখ শান্তি বিঘ্ন করার জন্য এদের মতো দেশের জুড়ি মেলা ভার তাই ভারতকে বলিষ্ঠ বৈদেশিক নীতি গ্রহণ করতে হবে।
তথ্য সহায়তায় – উইকিপিডিয়া ।