ভারত নিউজ – করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে একটা বিষয় উঠে আসছে আগামী দিনে জীবাণুর সাথে সমানে সমানে লড়তে গেলে এখন থেকে জোর দিতে হবে মাইক্রোবায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, মলিকিউলার বায়োলজি প্রভৃতি বিষয়কে। গত কয়েক বছর ধরেই আমরা ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়ে যাচ্ছি। এলাকা বিশেষে ফাইলেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণুর সংক্রমণ রয়েছে। করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত বা নির্মূল করতে হলে দরকার টেস্টিং, টেস্টিং এন্ড টেস্টিং। যত পারো টেস্টিং করে সংক্রমিত ব্যাক্তিদের সুস্থ

মানুষদের থেকে আলাদা করে দেওয়া তবে কিনা একে প্রতিরোধ করা যাবে কিন্তু সমস্যাটা কিভাবে করা যাবে এত টেস্টিং, প্রথমত কিটের অভাব, সারা দেশে যা জনসংখ্যা তাতে করে এত কিট যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। কিটের বিকল্প যেসব টেস্ট রেপিড রেস্ট, সোয়াব পরীক্ষা কিন্তু নমুনা তো নিলাম তারপর এত পরীক্ষা হবে কোথায়, করবে কে, এত নমুনা নেওয়ার মতো কর্মী কোথায়? পরীক্ষা করতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি হলে সেটা তো হিতে বিপরীত হবে। বর্তমানে চিকিৎসকরা ছোট, মাঝারি, বড় যেকোনো ধরনের শারীরিক সমস্যায় শারীরিক পরীক্ষা না করে কোনও ওষুধ বা চিকিৎসা করেননা কিন্তু জীবাণু পরীক্ষা করতে গেলে তো সরকারি বা বেসরকারি ল্যাব দরকার। জনসংখ্যা ও রোগের অনুপাতে অতো ল্যাব কোথায় ? পাড়ায় পাড়ায় অনেক প্যাথোলজিকেল ল্যাবরেটরি গড়ে উঠেছে কিন্তু সেগুলির পরিকাঠামো ও পরীক্ষকদের গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তারা আদৌ মাইক্রোবায়োলজি পাস করে এসেছে কিনা প্রশ্ন আছে। গ্রাম বাংলার মানুষ যেমন গ্রামীণ চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হয় এরকমই মাইক্রোবায়োলজি পাস না করেই ল্যাবোরেটরি খোলা প্যাথলজিস্ট এর কাছে মানুষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে ও রিপোর্ট নিতে বাধ্য হন। পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতবর্ষ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাইক্রোবায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, মলিকিউলার বায়োলজি প্রভৃতি বিষয় কলেজ কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিস্তারিত করেনি এবং এই সমস্ত বিষয়ের গবেষণার ওপরেও গুরুত্ব দেয়নি সেভাবে। বিক্ষিপ্ত কিছু এই সমস্ত কোর্স গড়ে উঠেছে কিন্তু এই সমস্ত বিষয়ে বেশ মজবুত ভিত্তি ও পরিকাঠামো আমাদের দেশে এখনও পর্যন্ত হয়নি তাই বহু ক্ষেত্রে ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা হয় কিংবা অন্ধের মত চিকিৎসা হাতড়ে বেড়াতে হয়। করোনা পরিস্থিতি সেটাকে বেআব্রু করে দিয়েছে। আগামী দিনে ভারতবর্ষকে উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উপহার দিতে হলে ব্লকে ব্লকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় রোগ নির্ণয় কেন্দ্র চালু করতে হবে এবং দক্ষ মাইক্রোবায়োলজিস্ট নিয়োগ করতে হবে। উন্নত মানের চিকিৎসা ব্যবস্থা তখনই গড়ে উঠবে যখন চিকিৎসক জীবানুটার জিনগত বিষয়ে সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে পারবে এবং ফার্মাসিস্টরা সেই জীবাণুর উপযোগী ওষুধ প্রস্তুত করতে পারবে। মাইক্রোবায়োলজি, বায়োটেকনোলজি,

মলিকিউলার বায়োলজি

মলিকিউলার বায়োলজি জীবাণুর আচার-আচরণ, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য, জিনগত ধারণাটিকে সঠিকভাবে তুলে ধরবে, চিকিৎসকদের রোগ নির্ণয় করতে ও ওষুধ প্রেস্ক্রাইব করতে সুবিধা হবে এবং ফার্মাসিস্টদের সঠিক ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে। ভারতবর্ষ বহু ধরনের ওষুধ বাইরে থেকে আমদানি করতে বাধ্য হয় কারণ ভারতবর্ষের ওষুধ তৈরির উপকরণ, ওষুধ প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অভাব দুটোই রয়েছে সেই সঙ্গে জীবাণুর হাল হকিকত আমাদের অনেকটাই অজানা। মাইক্রোবায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, মলিকিউলার বায়োলজি বিস্তৃত হলে সেই অভাব অনেকটাই দূর করবে বলে আশা করা যায় তবে শুধু কোর্স খুললেই হবেনা এবং ডিগ্রী দিলেই হবেনা উন্নত ল্যাব কলেজ থেকেই গড়ে তুলতে হবে যাতে এই সমস্ত বিষয়ের উপর ভিত্তি আমাদের দেশে গড়ে ওঠে। তখন বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য যে কিটের দরকার হয় সেগুলো আমরা দেশেই তৈরি করতে পারব, দ্বিগুণ খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবেনা।

বায়োটেকনোলজি