ভারত নিউজ – সম্প্রতি চায়না পণ্য বর্জন করার ডাক দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের নিয়ম থাকায় সরকার কোনও দেশের পণ্য আটকাতে পারেনা কিন্তু মানুষ চাইলে ব্যবহার বন্ধ করতে পারে। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন বা নির্বাচনী প্রচারে চীনে তৈরি ফ্লেক্সের ব্যবহার বন্ধ করা হোক। ফ্লেক্স প্রিন্টিংয়ে ফ্লেক্সগুলি আসে চীন থেকে। ছাপা হয় ফ্লেক্স প্রিন্টিং মেশিনে যেটা ভারতের সর্বত্র রয়েছে কিন্তু ফ্লেক্সের পেপারগুলি চীনে তৈরি, অনেক কম খরচে দ্রুত

সুন্দর ছাপা হয় ফ্লেক্সে। তাই ফ্লেক্সের এত কদর। আগে ছিল দেওয়াল লিখন বা কাপড়ের ব্যানার যেটা অনেক শ্রম ও সময়সাধ্য এবং ব্যয়বহুল। তাছাড়া ফ্লেক্স বৃষ্টির জলে নষ্ট হয়ে যায়না কিন্তু পরিবেশের জন্য ফ্লেক্স খুবই ক্ষতিকর এবং এখন প্রচার ও বিজ্ঞাপনের জন্য যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে ফ্লেক্সের। লোকসভা ভোটগুলিতে সারাদেশে রাজনৈতিক দলগুলি কয়েক লক্ষ টন ফ্লেক্সের ব্যবহার করে। চায়না পণ্য বর্জন করতে চাইলে রাজনৈতিক দলগুলো কি পরিবেশ দূষণকারী ও চীনকে সমৃদ্ধকারী ফ্লেক্সের ব্যবহার বন্ধ করবে ? বন্ধ করতে পারলে সেটা একটা ইতিবাচক বার্তা যেত এবং পরিবেশ দূষণ অনেকটাই রোধ করা যেত। শিল্পপতিরা চাইলে বিজ্ঞাপনের জন্য ফ্লেক্সের বদলে অন্য কোনও মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে। ফ্লেক্স মাটিতে সহজে মেশেনা, বৃষ্টির জল ভূগর্ভে যেতে বাধা পায় এবং জল সংকট সৃষ্টি করে। ফ্লেক্স পুরোপুরি রাসায়নিকভাবে তৈরি হয় এই কারণে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সেই সঙ্গে ভোটের সময় যথেচ্ছ ফ্লেক্সের ব্যবহার দৃশ্য দূষণ ঘটায়। তবে ফ্লেক্সের বিকল্প কাগজের পোস্টার ব্যবহার করলে যথেচ্ছ বৃক্ষ ধ্বংস হয়। কাগজের পোস্টার ব্যয়বহুল তবে কাগজের পোস্টার মাটির সাথে মিশে যায় তাই বৃষ্টির জল ভূগর্ভে যেতে বাধা দেয়না। বিজ্ঞাপনের জন্য রাজনৈতিক দল এবং শিল্পপতিরা সামাজিক মাধ্যমকে ব্যবহার করুক এটা অনেক কম ব্যয়বহুল, পরিবেশ দূষণ করেনা। খুব সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। ফ্লেক্সের ব্যবহার বন্ধ করতে পারলে ভারতের বহু অর্থ ভারতের মধ্যেই থাকবে। সামনেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, কেরলসহ অনেকগুলি রাজ্যের বিধানসভা ভোট রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে পুরভোট, পঞ্চায়েত ভোট প্রায় সময় লেগেই থাকে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের, বিভিন্ন সংগঠনের সভা হয়ে থাকে এগুলোতে ফ্লেক্সের ব্যবহার বন্ধ করে দেশবাসী একটা বার্তা দিক, নিতান্তই প্রয়োজন হলে কাগজের পোস্টার ব্যবহার করা হোক।