ভারত নিউজ – করোনা ভাইরাস এই মুহূর্তে কার্যত ভারতবাসীর কাছে একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। এটা একটা বাঁচার লড়াই। করোনা জাতীয় মহামারী আইনের মধ্যে অন্তর্গত। দেশজুড়ে লকডাউনে অর্থনীতি অবরুদ্ধ। করোনার সঙ্গে লড়তে গেলে মাস্ক, হেড মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড ওয়াশ প্রভৃতি ব্যবহৃত সামগ্রীর মধ্যে আবশ্যক। এছাড়া রয়েছে করোনা পরীক্ষার জন্য কিট। জাতীয় বিপর্যয়ে বহু দেশে সরকার সমস্ত ব্যয় বহন করে। ভারতবর্ষের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে সরকারের পক্ষে এত সামগ্রী সম্পূর্ণ ফ্রিতে দেওয়া কঠিন।

আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র মানুষের পক্ষে এগুলো ক্রয় করাও কষ্টকর। যাই হোক ভারতবাসী সরকারের কাছে এতকিছু চায়নি কিন্তু এই বিপর্যয়ের মুখে সরকার অন্তত করোনা সামগ্রী শুল্কমুক্ত করুক যেখানে দেশ ও দেশবাসী মহামারির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে সামিল হয়েছে সেখানে সরকার আয়ের চিন্তা ত্যাগ করুক। দেশবাসীতো সরকারের কাছে বিনা পয়সায় চায়নি কিন্তু সরকার অন্তত নৈতিক এবং মানবিক দিক থেকে বিচার করে মাস্ক, গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, পিপিই, ফেস শিল্ড এগুলো শুল্কমুক্ত করুক যাতে সাধারণ মানুষ আরো বেশি করে এগুলো ক্রয় করতে পারে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। শুল্ক মুক্ত হলে দাম কমবে এবং সেক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন যারা মানুষকে ফ্রিতে করোনা সামগ্রী দান করছেন তারা আরও বেশি করে দান করতে পারবেন এবং আমাদের প্রতিরোধ আরো শক্তপোক্ত হবে। সরকার তো সমস্ত কিছুতেই কর নেয় অন্তত এই অত্যাবশ্যক সামগ্রীগুলোকে করের আওতার বাইরে রাখুক। সার্জিক্যাল মাস্কে ৫%, স্যানিটাইজারে ১৮%, হ্যান্ড ওয়াশ ৮%, রক্ত পরীক্ষার কিটে ১২% জিএসটি আরোপ করা আছে। ভারতবর্ষে বহু মানুষের কাছে হ্যান্ড ওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিলাস সামগ্রী তাদের কাছ পর্যন্ত এগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য জিএসটি মুক্ত করা হোক। তাহলে আপনাআপনি এগুলো সুলভ হয়ে যাবে। তাছাড়া এগুলো এখন বেশ কিছুদিন ক্রয় করে যেতে হবে, একবার কিনলেই কাজ হয়ে যাবে তা নয়। অনেকে অর্থের কারণে কাপড়ের মাস্ক পরছেন কিন্তু কাপড়ের মাস্কে কতটা কাজ হয় সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন আছে। শুল্কমুক্ত, কালোবাজারি বন্ধ করা গেলে N95 মাস্ক অনেকটাই কম দামে বাজারে পাওয়া যাবে। N95 মাস্কের কোনও নির্দিষ্ট দাম নেই যে যেমন পারছে টুপি পরিয়ে নিয়ে নিচ্ছে। দোকানে যে দামে বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে তার অর্ধেক দামে পাওয়া যাচ্ছে ।