ভারত নিউজ – সাম্প্রতিক চীন-ভারত রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকার বেশ কিছু চায়না অ্যাপ বন্ধ করেছে। বহু ভারতবাসীর দাবি ছিল চায়না অ্যাপ নিষিদ্ধ করার জন্য। ভারত সরকার বেশ কিছু চায়না অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে। মূলতঃ, ভারতবাসী টেকনোলজির দিক থেকে অত উন্নত নয় বলেই চায়না অ্যাপ বা চায়না পণ্য ব্যবহার করতে বাধ্য হয়। আসুন দেখে নিই এতে ভারতবাসীর কি কি ভালো হতে পারে আর কোথায় কোথায় অসুবিধা হতে পারে। টিকটক এটা নিষিদ্ধ করায় ভারতবাসীর একশো শতাংশ ভালো হয়েছে। ভারতবর্ষের দৈনন্দিন কাজের জন্য এই অ্যাপের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই কিছু অলস ব্যাক্তির অভিনয় দেখানোর এবং অভিনয় দেখার জন্য এই অ্যাপটি ব্যবহার করা হয়।

টিকটক অ্যাপের অভিনয়গুলি ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই নয়। কারোর কারোর অভিনয়ে বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি দেখা যায়। ভারতবাসী নিজের সময়, অর্থ নষ্ট করে, বিনিময়ে চীন বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে। কেউ নিজের প্রতিভা দেখাতে চাইলে ইউটিউব চ্যানেল খুলে করতে পারে। এবার আসি হ্যালো অ্যাপ বা অন্য সোশ্যাল অ্যাপগুলো। সামাজিক মাধ্যমের জন্য ফেসবুক বা ট্যুইটার রয়েছে। সুতরাং চায়না সামাজিক অ্যাপগুলো বন্ধ করে দিলেও সমস্যা হবেনা। ইউসি ব্রাউজার ইন্টারনেট সার্চিং এর জন্য। এর জন্য গুগুল রয়েছে যদিও অনেকের মতে গুগুলের চেয়ে ইউসি ব্রাউজারে কাজ আরো ভালো হয় তবে যেহেতু গুগুল রয়েছে ইউসি ব্রাউজার বন্ধ করে দিলেও সমস্যা খুব একটা হবেনা। তবে, ক্যামস্ক্যানার এটা বন্ধ করায় অফিশিয়াল কাজের ক্ষেত্রে একটু সমস্যা হতে পারে। ক্যামস্ক্যানার নিখুঁত ভাবে যে কোন ডকুমেন্ট স্ক্যান করে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য মাধ্যমে পাঠাতে পারে। ছবি তুলে পাঠানো যায় তবে ক্যামস্ক্যানারে আরো নিখুঁত হয়। অফিসের কাজের ক্ষেত্রে বা ব্যক্তিগত কাজের ক্ষেত্র সবার বাড়িতে কম্পিউটার বা স্ক্যানার নেই, অফিসে থাকলেও স্ক্যানারে স্ক্যান করে ইমেল করতে সময় লাগে। মোবাইলে ক্যামস্ক্যানারে খুব তাড়াতাড়ি ছবি তুলে পাঠানো যায়। পিইউবিজি ছোটদের গেম খেলার অ্যাপ এটা নিষিদ্ধ হয়নি তবে বহু অভিভাবক চাইছেন এটা বন্ধ হোক। বাচ্চারা ঘন্টার পর ঘন্টা এই অ্যাপে গেম খেলার জন্য মগ্ন থাকে যা বাচ্চাদের শরীর, মন ও চোখ সবের ক্ষতি করে। এছাড়া, রয়েছে মোবাইল ভাইরাস, ব্যাটারি সেভার, মোবাইল ক্লিন রাখা অ্যাপস এই অ্যাপসগুলি মোবাইলে অহেতুক যাতে চার্জ খেয়ে না যায় সেটা দেখে, ভাইরাস আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং মোবাইলে সফটওয়ারে ছোটখাটো সমস্যা থাকলে দূর করে দেয়। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলকে ঠিকঠাক রাখার জন্য এই অ্যাপগুলো দরকার হয়। এক্সজেন্ডার এবং শেয়ারইট অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে আরেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তথ্য বা অন্য কিছু শেয়ার করে যদিও তথ্য বা ইমেজ এখন বেশি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয় বেশি। তবে, এতদিন চায়না অ্যাপ ব্যবহার করায় ভারত বিকল্প অ্যাপ অ্যাপ তৈরি করেনি। এখন হয়তো প্রয়োজন বা তাগিদ থেকে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়াররা বিকল্প অ্যাপ তৈরি করবে তবে মোটের ওপর সোশ্যাল অ্যাপ, গেম, অডিও-ভিডিও এই সমস্ত অ্যাপগুলি বন্ধ করলে ভারতবাসীর কাজের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবেনা। অফিসিয়াল কাজের জন্য ব্যবহৃত অ্যাপগুলি বন্ধ করলে সাময়িক সমস্যা হতে পারে যতদিন না বিকল্প তৈরি হচ্ছে।
