ভারত নিউজ – অক্সফোর্ডে করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করছেন ভারতের কন্যা চন্দ্রা দত্ত। ওখানে যে টিম কাজ করছে তার একজন সদস্যা চন্দ্রা দত্ত। এটা ভারতবাসীর কাছে গর্বের। সফল হলে তাতে এক ভারতীয় কন্যার অবদান থাকবে নিঃসন্দেহে গর্বের কিন্তু তার সাথে সাথে একটা সমালোচনারও প্রয়োজন রয়েছে। চন্দ্রা দত্তকে গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড কেন যেতে হল ভারত বা ভারতের কোন গবেষণাগার কেন তাকে এই সুযোগ দিতে পারলনা। ভারতে যদি সুযোগ থাকত তাহলে হয়তো তাকে বিদেশে পাড়ি দিতে হতোনা। শিক্ষার জন্য, কর্মের জন্য যেকোনো মানুষের বিদেশে যাওয়ার

অধিকার আছে কিন্তু ভাববার বিষয় তারা কি শুধু বিদেশকে ভালবেসে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন নাকি দেশে তারা সুযোগ পাচ্ছেননা বলে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্বভাবতই প্রতিটি মানুষই চায় তার নিজ গৃহের কাছাকাছি কর্মের সন্ধান সেই সুযোগনা পেলেই জেলার বাইরে বা রাজ্যের বাইরে বা দেশের বাইরে যেতে হয়। ভারতে সুযোগ না পাওয়ায় ভারতের শ্রেষ্ঠ মেধাগুলো বিদেশীরা তুলনায় কম বেতনে কাজে লাগাচ্ছে। তাদের মেধার দ্বারা আবিষ্কৃত পণ্য বিদেশি দেশগুলো আমাদেরকে বেচবে অনেক বেশি দামে। ওই মেধা যদি দেশের মধ্যে থাকতো তাহলে তাদের আবিষ্কৃত পণ্য আমরা অনেক কম দামে পেতাম সেই সঙ্গে ভারতীয় সন্তানদের দারা গবেষণার কৃতিত্ব পুরোপুরি নেবে পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলি। আমরা শুধুমাত্র ভারতীয় সন্তান, ভারতীয় বংশোদ্ভূত সন্তান বা কন্যা এই ভেবেই কল্পনার সুখ পাব। মার্কিন মুলুকে বা ইউরোপে পাড়ি দিতে পারলে ভারতীয়রা নিজেদেরকে ধন্য মনে করে। ভারত বা ভারতবাসী দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি এই দুর্বলতা ভুলে যায়। অনেকেই অভিযোগ করে থাকেন ভারতে পড়ে যারা বিদেশে চাকরি করতে যায় তারা স্বার্থপর। উল্লেখ্য, তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বা চাকরি করতে গিয়ে যে অর্থ উপার্জন করে তার একটা অংশ তারা জন্মভূমিতে পিতা-মাতার কাছে বা ভাই-বোনেদের কাছে পাঠায় সেই অর্থ ভারতের বাজারে রোল করে উপকৃত হয় ভারতীয় অর্থনীতি ও বাণিজ্য। তবে তার থেকে অনেক বেশি মূল্যের মেধা বিদেশে চালান চলে যায়। তাছাড়া, তারা কেন ভারতে পড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে এই প্রশ্ন না করে আগে এই প্রশ্ন করা উচিত তারা কেন দেশে কাজ না পেয়ে বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু ভারতীয় মেধাই নয় ভারতীয় শ্রম সেটাও বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। কাঠের কাজ, শ্রমিকের কাজ, গাড়ি চালানো প্রভৃতি কাজ করতে ভারতীয়রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। বিপুল জনবিস্ফোরণ, কর্মের পরিধি প্রসারিত না হওয়া এই দুই পরস্পরবিরোধী কারণের জন্য বিদেশ পাড়ি দেয় নিজের পরিবার, পরিজন জন্মভূমিকে ছেড়ে দিয়ে। আর কতদিন আমরা একজন ভারতীয় বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে ভারতীয় বলে গর্ব করব। এরপর একটা বিতর্ক উঠবে উনি ভারতীয় না আমেরিকান। আমরা চায়না পণ্য ব্যবহার করতে বাধ্য হই কারণ বিকল্প পণ্য ভারতে তৈরি হয়না। মেধা যদি বিদেশে পাড়ি দেয় গবেষণা ও আবিষ্কার দেশে তাহলে হবে কিভাবে। বিশ্বায়ন, আন্তর্জাতিকতাবাদের যুগে মেধা, কর্ম এগুলোর আদান-প্রদান হবে সন্দেহ নেই কিন্তু একতরফাভাবে যদি চালান চলে যায় তাহলে ভারতীয় সায়েন্স ও টেকনোলজি এগোবে কি করে। অনেক ক্ষেত্রে বা কিছুটা হলেও ভারতীয় টেকনোলজি এগিয়েছে কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশগুলির সমকক্ষ এখনো হয়নি না হলে ভারতকে বোফর্স কামান বা রাফেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতনা ভারত এখন বিদেশে রপ্তানী করতো। আসলে শুধুমাত্র উন্নত দেশের শাসকদের সঙ্গে বা প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের শাসক ও প্রশাসনের তুলনা করলে হবেনা নিজেদেরকে সেই দেশের নাগরিকের সঙ্গে তুলনা করতে হবে। তুলনা করলে আপনা আপনি নিজের মনের মধ্যে একটা আত্মসমালোচনা সৃষ্টি হবে। আব্দুল কালাম স্বইচ্ছেয় ভারতে কাজ করেছেন বিদেশে যাননি তাই ভারত মিসাইলে স্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাহলে এরকম হাজার হাজার আবদুল কালামকে আমরা যদি দেশের মধ্যে রাখতে পারতাম তাহলে আজ ভারত বিজ্ঞানে ও প্রযুক্তিতে কোথায় গিয়ে পৌঁছাতো। কল্পনা চাওলার মেধাকে আমেরিকা কাজে লাগিয়েছে। ভারত শুধুমাত্র গর্ব অনুভব করেছে। তার কৃতিত্ব দাবি করতে পারেনি।