কেউ বলে জীবের মৃত্যু হয় আত্মার মৃত্যু হয়না , আত্মা অবিনশ্বর । কেউ বলেন মানুষ মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকে তার কাজের মাধ্যমে । তবে এগুলো তাত্ত্বিক মতবাদ ।এর বাইরেও একটা রয়েছে ফলিত মতবাদ যেটা নিজের ইচ্ছে এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহায়তায় সাধন করা সম্ভব । বছর বত্রিশের সংগ্রাম ভট্টাচার্য। পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। ভাটপাড়ার বাসিন্দা। গত ১৪ ই আগষ্ট শুক্রবার কল্যানীতে বাইক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে ভর্তি করা হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখানেই গতকাল তাঁর ব্রেনডেথ হয়। সংগ্রাম পেশাগত অবস্থানের জায়গায় সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতো।সেই স্বপ্নকে সম্মান জানিয়ে তার পরিবার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করলো। সংগ্রামের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হবে হাওড়ার নারায়ণা হাসপাতালে ভর্তি ১৭ বছরের কিশোরীর শরীরে।

একটি কিডনি ও ত্বক যাবে এসএসকেএমে। আরেকটি কিডনি ও যকৃৎ প্রতিস্থাপন করা হবে অ্যাপোলো হাসপাতালেই। কর্নিয়া যাবে দিশা চক্ষু হাসপাতালে। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য তৈরি করা হবে দুটি গ্রিন করিডর। চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন এতোটাই উন্নত যে একজনের অঙ্গ আরেকজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করে বাঁচিয়ে তোলা বা সুস্থ করে তোলা সম্ভব ।তারজন্য দরকার মানুষের চিন্তা-ভাবনাটাকে প্রসারিত করা । সংগ্রাম ভট্টাচার্যের সংগ্রাম অকালে বিলীন হয়ে যায় একটি দুর্ঘটনায় তবে সে বেঁচে থাকবে অন্যের শরীরে এবং সংগ্রাম করে যাবে অন্যের মাধ্যমে । তবে এক্ষেত্রে সংগ্রামের পরিবারের উন্নত মানসিকতাকেও ধন্যবাদ দিতে হয় । স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যে তারা উন্নত মানসিকতার ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছে । তবে এক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে কারণ অঙ্গ প্রতিস্থাপন খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে করতে হয় যারজন্য গ্রিন করিডোর করে ট্রাফিক জ্যাম মুক্ত করে দ্রুত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হয়।