সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নিয়েছেন রঞ্জন গগৈ। জন্মসূত্রে তিনি আসামের বাসিন্দা ।অবসর গ্রহণের পর তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন তবে অবসরের পরেই রাজ্যসভার আসন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটি সমালোচনার জায়গা তৈরি হয় অর্থাৎ যেটা বলা হয় বিচারপতিরা অবসরের সাথে সাথেই রাজনীতিতে যোগ দিলে তাহলে বিচার প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। এথিকস এর দিক থেকে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায়না তবে অবসরের পর কেউ রাজনীতিতে যোগ দিলে আইনগতভাবে সেরকম কোন বাধা নেই। তাছাড়া রঞ্জন গগৈ এক্ষেত্রে প্রথম নয় এর

আগেও বিচারপতিরা অবসর গ্রহণের পর সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন তখন কিন্তু বিতর্ক ওঠেনি। পদ্মা খাস্তগীর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন, অবসর গ্রহণের পর তিনি ১৯৯৬ সালে পাঁশকুড়া লোকসভা আসনে কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে দাঁড়ান গীতা মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। নূরে আলম চৌধুরী তিনি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির ছিলেন অবসরের পর তিনি ২০০৯ সালে ঘাটাল লোকসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন গুরুদাস দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে। ২০১১ সালের বিধানসভা আসনে তিনি বীরভূমের একটি বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়ী হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হন ।তাছাড়া বিভিন্ন রাজ্যের আমলারা অবসরের পর সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি আসাম রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে রঞ্জন গগৈকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার চিন্তা ভাবনা করছে । অতীতে আমলা ,বিচারপতি তারা অবসরের পর যদি নির্বাচনে লড়তে পারেন সে ক্ষেত্রে রঞ্জন গগৈ এর ক্ষেত্রে বিতর্ক কেন ? এমনকি সেনাবাহিনী বা পুলিশ যেখানে রাজনীতি বা পার্টি পুরোপুরি নিষিদ্ধ সেইসব পদস্থ আধিকারিকরাও অবসরের পর রাজনীতিতে যোগদান করেছেন অনেকেই। শংকর রায়চৌধুরী বাম ও কংগ্রেসের যৌথ সমর্থনে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন। কর্নেল দীপ্তেন্দ্র চৌধুরী বর্তমানে রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন ।