মার্চের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ হয়ে রয়েছে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন। দিল্লিতে সপ্তাহ খানেক আগে থেকে কারণ দিল্লিতে সংক্রমণ আগে ধরা পড়েছিল ।শুধু স্কুল নয় একেবারে আইসিডিএস থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তর পর্যন্ত অর্থাৎ শিক্ষাঙ্গন পুরোপুরি লকডাউন ।প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল ক্লাসের থেকেও পরীক্ষার্থীদের জীবনটা অনেক বেশি জরুরী। ঠিকই তো আগে তো স্বাস্থ্য তারপর লেখাপড়া কিন্তু প্রথমটা ভাবা হয়েছিল ওই ২১ দিন বড়জোর ৪৯ দিন একটু কষ্ট করে ও নিষ্ঠা সহকারে লকডাউন পালন করতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসবে কিন্তু সেই ভাবে কষ্ট করে ও নিষ্ঠা সহকারে লকডাউন গোটা দেশজুড়ে সমগ্র দেশবাসী পালন করেনি। তবে লকডাউন একদম 

বিশ্বজুড়ে শ্রেণিকক্ষের এই চিত্র ।

পালন হয়নি তাও নয় অন্তত ৬০% লকডাউন পালন হয়েছে কিন্তু লকডাউনেও করোনার সংক্রমণ এতটুকুও কমেনি আনলক পর্ব শুরু হওয়ার সাথে সাথেই দেদার সংক্রমণ বাড়তে থাকে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লকডাউন মাসের পর মাস বাড়তে থাকে তাহলে এই অবস্থায় পড়াশোনার কী হবে আবার গোটা বছর শিক্ষাঙ্গন বন্ধ রাখলেই পরের জানুয়ারি থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা ।যেটা দাঁড়াচ্ছে হয়তো কয়েক বছর করোনাকে সঙ্গী করেই, করোনার সাথে লড়াই করেই চলতে হবে কারণ ভ্যাকসিন নিয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা আসেনি ।হয়তো আসবে কিন্তু কবে আসবে এখনই বলা যাচ্ছেনা ।পৃথিবীতে অনেক সংক্রমণ রয়েছে যেমন এইচআইভি, ডেঙ্গি যার  প্রতিষেধক এখনো আসেনি কিন্তু তাহলে কি সব দিন জনজীবন স্তব্ধ থাকবে এই মুহূর্তে লেখাপড়া নিয়ে নিচু ক্লাসের চেয়ে চিন্তিত সকলে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ,মেডিকেল, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের নিয়ে কারণ তাদের কাছে একটা বছর নষ্ট করা জীবনের অমূল্য ক্ষতি কিন্তু শুধু পরীক্ষা নিলেই তো হবেনা ক্লাস করাতে গিয়ে যদি সংক্রমণ ব্যাপক বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে সরকারি নীতি ও প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়বে এবং জবাবদিহির জায়গায় যাবে আবার স্তব্ধ করে দিলে শিক্ষার্থীদের কেরিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আসবে। এক্ষেত্রে কোনটা গ্রহণ করা উচিত এই প্রশ্নের উত্তর লেখাটা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন উত্তর ।সামনে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ,
 গত কয়েক মাস কোনো ক্লাস হয়নি ।বড়জোর এক দু মাস পরীক্ষা পেছানো যেতে পারে সেটা যদি হয় এই মুহূর্তে ক্লাস চালু করতে হবে নাহলে অসম্ভব ও অবাস্তব হবে পরীক্ষা নেওয়া কারণ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পুজোর আগে সিলেবাস শেষ করে দিয়ে পুজোর পরেই টেস্ট পরীক্ষা নেওয়া হয়। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায় আছে ইন্টারন্যাল নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যাবেনা আবার পরীক্ষা দিতে গেল ক্লাসের প্রসঙ্গ আসবে কারণ ভারতের মতো দেশে অনলাইন ক্লাস করিয়ে সিলেবাস সম্পূর্ণ করা যায় না ।পৃথিবীর কোন দেশে হয় কিনা বিতর্ক আছে । সামনেই রয়েছে নিট ও জয়েন্টের পরীক্ষা ।ট্রেন স্বাভাবিক না থাকায় সেই পরীক্ষা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে তবে এখানে শুধু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে ক্লাসের ব্যাপার আসছেনা। আবার সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ,মাস্ক পরে, ক্লাস করানো হলেই সংক্রমণ হবেনা এটাও বুকে জোর দিয়ে বলা যাচ্ছেনা সবচেয়ে বড় আশঙ্কা শিক্ষাঙ্গন থেকে কমিউনিটি সংক্রমনের ।একসাথে অনেকের সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে ।করোনা ভাইরাস শিশু ও বৃদ্ধদের তাড়াতাড়ি অ্যাটাক করে ।একটা বর্ষ যদি বাতিল করে দেওয়া যেত তাহলে হয়তো অনেক সমস্যার সমাধান করা যেত কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীদের মনোবল , পড়ার আকাঙ্ক্ষা অনেকটা ভেঙে যাবে তাই এই কঠিন সিদ্ধান্তটা নেওয়া যাচ্ছেনা তবে এক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি কি করে সেটাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে কারণ কয়েকটি দেশে স্কুল খুলতে গিয়ে বিপত্তি হয়েছে ।আবার দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে স্কুলছুট ,নাবালিকা বিবাহ এগুলো বাড়বে। সরকারের কিছু প্রকল্পে ড্রপ আউট ,বাল্যবিবাহ কিছুটা হলেও রোধ করা গিয়েছিল কিন্তু সমস্ত কিছু ভাঙ্গন ধরিয়ে দিয়েছে একটা মহামারী ।লকডাউন এর শুরুতে শিক্ষকদের নিজেদের চেষ্টায় ও কিছুটা সরকারি উদ্যোগে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কিন্তু খুব একটা একটা সফল হয়নি এটা স্বীকার করতে কারোর অসুবিধা নেই কারণ ভারতবর্ষে খুব একটা চল নেই ,সকলের বাড়িতে স্মার্টফোন নেই , অকস্মাৎ অন্য মাধ্যমে পড়াশোনা ছাত্রছাত্রীরা ঠিক রপ্ত হতে পারেনি ।সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তা । উত্তর নেই কারোর কাছে ‌। জলে কুমির ডাঙায় বাঘ অর্থাৎ উভয় সংকট । স্কুল খুললে সংক্রমণ স্কুল না খুললে জীবনের অনিশ্চয়তা । করোনাকে প্রতিহত করে সব সচল করতে গেলে ঐক্যমত্য থাকা দরকার এবং মাস্ক ,স্যানিটাইজার, সামাজিক দূরত্ব এগুলোতে স্বতঃপ্রণোদিত দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার থাকতে হবে ,বলে কয়ে এগুলো মানানো যায়না। সেইসঙ্গে দোষারোপ ও সমালোচনার মানসিকতা নিয়ে এই পথে এগোনো যাবেনা ।

কবে আবার শ্রেণীকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীর সঙ্গে মিলিত হবে উত্তর নেই কারোর কাছে ।