৮৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে ছিলেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন । বিদেশ ও অর্থ মন্ত্রকের মত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বও পালন করেছেন ।কয়েকদিন আগে বাথরুমে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় চোট পান। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সামরিক হাসপাতালে সেখানে তাঁর পরিস্থিতি কখনও খারাপ কখনও স্থিতিশীল ছিল । তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছিল । সেখানে চিকিৎসার সময় তাঁর করোনা ধরা পড়ে ।অবশেষে আজ তাঁর মৃত্যু হল। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ,এক পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের কীর্ণাহারে তাঁর জন্মভিটে ।প্রতিবছর দুর্গাপুজোয় তিনি বাড়ি আসতেন ।এবছর মহামারীর কোপে মা দুর্গা তাঁর গ্রামে আসবে কিনা অনিশ্চিত তবে তিনি আর যাবেননা ।

দীর্ঘদিন রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। পরবর্তীকালে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর লোকসভা আসনে নির্বাচিত হয়ে লোকসভার সদস্য হন। বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী অনুরোধ করেছিলেন জঙ্গিপুরে দাঁড়ানোর জন্য। তাঁর অনুরোধেই২০০৪ সালে কংগ্রেসের টিকিটে ও ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর থেকে কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোটপ্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ওই আসনে পুত্র অভিজিৎ মুখার্জি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন । উল্লেখ্য জঙ্গিপুর থেকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর ইউপিএ সরকারের তিনি অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন। ওই সময় তাঁর লোকসভা আসনে বেশ কয়েকটি এটিএম মেশিনের ব্যবস্থা করেছিলেন ।নোট বাতিলের সময় ওখানকার কিছু মানুষের বক্তব্য ছিল সারা দেশ যখন ব্যাংকে লম্বা লাইন দিয়েছে আমরা খুব সহজেই টাকা তুলতে পেরেছি কারণ প্রণববাবু অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন এলাকায় অনেকগুলি এটিএম মেশিন স্থাপন করেছিলেন ।
প্রণববাবুর জীবনের একটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ছিল ছোটবেলায় মন্ত্রী দেখার জন্য কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে হেঁটে গিয়েছিলেন। তিনি জানতেননা মন্ত্রীকে দেখতে কেমন হয় ।বাড়ি ফিরে এসে বাবার কাছে বকা খেয়েছিলেন মন্ত্রী দেখার জন্য অতটা রাস্তা হেঁটে হেঁটে যাওয়ার জন্য ।পরবর্তী জীবনে শুধু যে নিজে মন্ত্রী হয়েছেন তা নয় রাষ্ট্রপতি হয়ে ক্যাবিনেটের ও গোটা মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করেছেন ।