ভাদ্র মাসের এই দিনটিতে বা ভাদ্রমাসের কয়েকটি দিনে বাঙালির অনেক ঘরেই পালিত হয় অরন্ধন । এর তাৎপর্য বর্ষাকালে গ্রামবাংলায় উপদ্রব হয় লতার । লতা শব্দের অর্থ এখানে সাপ । সাপের ছোবলে গ্রামবাংলায় বর্ষাকালে বহু মানুষের মৃত্যু হয় । তাই সাপের দেবতা মনসাকে তুষ্ট রাখতে পালিত হয় অরন্ধন অর্থাৎ মনসার পুজো করা । এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ঐদিন বাড়িতে হাঁড়ি চড়বেনা ,আগের দিন পান্তাভাত করে রাখতে হয় । ওই পান্তাভাত পরের দিন অর্থাৎ অরন্ধনের দিন খাওয়া হয়। পুজোর সময় কাঁঠাল পাতায় পুরবিহীন সেদ্ধ পিঠে ঠাকুরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয় । উৎসবের আগের দিন রাতে গৃহস্থর ব্যস্ততা থাকে চরমে। মরসুমের সেরা সব্জি ও মাছ আরাধ্য দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করাই এই উৎসবের প্রধান লক্ষ্য। উৎসবের মূল আকর্ষণ হল ইলিশ ও অন্যান্য মাছের নানা পদ। সেই সঙ্গে বিভিন্ন কাঁচা আনাজ— যেমন আলু, ছাঁচি কুমড়ো, কলা, পটল, নারকেল, বেগুন, কুমড়ো, কচু শাক, নারকেল প্রভৃতি উপাদানের নানা ভাজা ও তরিতরকারি। মনসাকে তুষ্ট করতে সেই সব বিভিন্ন পদের খানিক অংশ সাজিয়ে উৎসর্গ করা হয়। এই অনুষ্ঠান বাড়িতে বাড়িতে করা হয় সার্বজনীন নয় তাই মহামারীর প্রকোপ এই পুজোর ওপর খুব একটা পড়েনি । সাধারণত এই পুজো গ্রামের দিকে বেশি হয় শহরে অতটা প্রচলিত নয় ।
বাঙালির অনেক ঘরেই ভাদ্র মাসে পালিত হয় অরন্ধন উৎসব ।
