মহামারী থেকে নিজেকে বাঁচাতে কোন কোন চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছিলেন কেউ কেউ আবার স্যানিটাইজারের খরচের জন্য ভিজিট পঞ্চাশ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন । এর উল্টো দিকে রয়েছেন কিছু মানবিক চিকিৎসক । করোনা যুদ্ধে তাঁরা নিজেদের আড়াল করে রাখেননি , ভিজিট বাড়িয়ে দেননি । নভেল করোনা ভাইরাস ঠেকাতে চিকিৎসকদের মৃত্যু মিছিল চলছে বিশ্বজুড়েই। এ রাজ্য‌ও তার ব্যতিক্রম নয়। রাজ্যে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে করোনা আক্রান্ত হয়ে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। লকডাউনের সময়ে একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে ভয় না পেয়ে সংক্রমণকে দূরে সরিয়ে চেম্বার করতেন হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। এক সময়ে মাত্র পাঁচ টাকার বিনিময়ে তিনি নৈহাটিতে রোগী দেখতেন। বাবাকে দেওয়া কথা তিনি রেখেছিলেন। তাই বাবার মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত তিনি পাঁচ টাকাতেই রোগী দেখেছেন। তবে গরীব মানুষ বা কোনো বন্ধুর মুখে একবার রোগীর অবস্থার কথা শুনে নিলে রোগীর পরিবারের কাছ থেকে একটিও পয়সা নিতেন না। গত দু’বছর হল তিনি নৈহাটির তালপুকুর রোডের পুরনো বাড়ি ছেড়ে বেলঘরিয়ার ডানলপ ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ছিলেন। কিন্তু প্রতিদিন নিয়ম করে নৈহাটিতে এসে রোগী দেখতেন। করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর গত শনিবার তিনি বেলঘরিয়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সোমবার তাঁকে ই এম বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে স্হানান্তরিত করা হয়। সেখানে পরপর দুবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হার্ট অ্যাটাক হয় এই চিকিৎসকের। সোমবার রাত ৮.৩০ মিনিট নাগাদ এই জনপ্রিয় চিকিৎসকের মৃত্যু হয়। অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি রোগী দেখে গিয়েছেন।গোটা লকডাউন এর সময় জুড়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন নৈহাটির ‘ বিধান রায় ‘ হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। অত্যন্ত জনপ্রিয় এই চিকিৎসকের অকালে চলে যাওয়ার খবরে নৈহাটি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি রেখে গেলেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন বছরের একমাত্র মেয়েকে। এর আগে শ্যামনগরের বাসিন্দারা হারিয়েছিলেন আরেক ভগবান প্রদীপ ভট্টাচার্যকে। তিনি গরিবের ডাক্তার বলে পরিচিত ছিলেন । যত রাতই হোক একটা ফোনেই হাজির হয়ে যেতেন । করোনার সঙ্গে লড়তে গিয়ে তিনি নিজেই করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন । মহামারীতে তিনি নিজেকে আড়াল করে রাখেননি ।