সৌজন্যে – শুভঙ্কর কর্মকার – সমগ্র বিশ্ববাসীকে সরকারীভাবে জানানাে হয়েছে যে ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট নেতাজী বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এ বিষয় নিয়ে বহুভাবে সমালোচনা হয়েছে, আজও হচ্ছে।বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা বা পুস্তক-পুস্তিকার আকারে লেখালেখিও হয়েছে। কিন্তু নেতাজী সত্যিই জীবিত না মৃত, এ নিয়ে আজও কেউ সঠিকভাবে জোর গলায় বলতে বা লিখতে পারছেনা অথবা সরকার পক্ষের কাছে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে জোর গলায় দাবি করতে পারছেনা যে নেতাজীকে ফিরিয়ে আনা হােক। একমাত্র বালক ব্রহ্মচারী মহারাজ ছাড়া। পরমপিতা বালক ব্রহ্মচারী মহারাজই একমাত্র নেতাজীর ১৯৬২ সালের ব্ল্যাঙ্ক সই করা কাগজ, নেতাজীর বর্তমান অবস্থান ও কর্মকান্ড নিয়ে এতদিন ধরে তার সন্তানকর্মীদের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রচার করে এসেছেন। নেতাজী জীবিত না মৃত এ নিয়ে শুনতে শুনতে জনগণেরও তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে। তাই কোন ভাষাগত মার প্যাঁচ নয়, শুধুমাত্র অতি সাধারণ প্রশ্নবােধক বিষয় নিয়ে আলােকপাত করছি:-
১। ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট যদি নেতাজীর মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে ফরমােজার তাইহােকুতে জ্বলন্ত বিমানে যে ১৩ জন যাত্রী ছিলেন তারা সবাই বেঁচে গেলেন অক্ষতভাবে, আর কেবলমাত্র নেতাজীই পুড়ে মারা গেলেন? যদি তাই হয়, তাহলে কফিনের মধ্যে থেকে যখন ছবি তােলা হয় মুখ খােলা থাকা সত্ত্বেও মুখ বাদে সারা শরীরের ছবি নেওয়া হয়েছিল কেন?সেটা আদৌ কি নেতাজির?(যদিও তাইওয়ান সরকার জানিয়েছে কোনো প্লেন দুর্ঘটনা সেদিন হয় নাই, ২৯শে আগস্ট ২০০৩ ,আলিপুর বার্তা)
ঠিক এই একই রকম ঘটনা ঘটেছিল বালক ব্রহ্মচারী মহারাজের ক্ষেত্রে আলােকচিত্রীদের কোন ছবিই তুলতে দেওয়া হয়নি।কেন? এতবড় বিশ্বখ্যাত মহান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কেন এই লুকোচুরি?

২। জাপানের যে রেনকোজি মন্দিরটির মধ্যে নেতাজীর (?) চিতাভষ্ম সংরক্ষিত আছে বলে প্রচারিত এবং আজও ভারত সরকার তার জন্যে টাকা খরচ করেন তা ফরেনসিক রিপাের্টে প্রমাণ হয়েছে, এটা নেতাজীর তাে দূরের কথা কোনো মানুষের চিতাভষ্ম নয়, কোন জন্তুর চিতাভষ্ম— সম্ভবতঃ কুকুরের এবং চিতাভস্মের জায়গায় কিছু হাড়গোড় যা একজন মানুষের হাড়ের সঙ্গে কোনো মিল নেই। এতবড় একজন আন্তর্জাতিক জাতীয় মহান নেতৃত্বের প্রতি কুকুর সমতুল্য সম্মান প্রদর্শন আজ সমগ্র জাতির লজ্জা!
তাছাড়া ঐ রেনকোজির কাঠের বৌদ্ধ মন্দিরটি ১৯৮৯ সালে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। পরে ভারত সরকারের টাকায় ঐ মন্দিরটি আরাে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে কোঠার মন্দির বানানাে হয়। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় অতবড় একটি কাঠের মন্দির যেখানে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়, সেই মন্দিরের মধ্যে একটি কাঠের বাক্স কিভাবে অক্ষত থাকে ?