বিদায় গন্ধগোকুল – সৌরেন্দু শেখর বিশ্বাস ।
ভারত বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রায় হারিয়ে যেতে বসা এই বিপন্ন প্রাণীটির ক্ষেত্রান্তরে নাম – ভাম, গন্ধগোকুল, তাল খাটাশ, গাছ খাটাশ, ভোন্দর, নোঙর, সাইরেল, ইংরেজিতে Asian Palm Civet, বৈজ্ঞানিক নাম – Paradoxurus hermaphroditus.

গত বছর ৫ ই নভেম্বর আমাদের বাড়িতে এই অতিথির আগমনবার্তা হয়েছিল । বাড়িতেই ওরা সংসার পেতেছিল এমনকি একজোড়া বাচ্চাও হয়েছিল। চুরি-চামারি করলেও গত দশ-এগারো মাস এদের আম কলা ইত্যাদি খাইয়েছি হাসিমুখেই। তবুও মাসখনেকের ওপর, এদের অত্যাচার হয়ে গিয়েছিল লাগামছাড়া। যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ ও বমিকরা ছাড়াও অসাধারণ কায়দায় খাবার-দাবার চুরি ও নষ্ট করছিল শুধু এ বাড়িতেই নয় আশপাশের বাড়িগুলোতেও।
প্রত্যেকদিন ঠাকুরঘর তছনছ করে দেওয়ার জন্য গিন্নির গঞ্জনা তো ছিলোই, ইতিমধ্যে যোগ হয়েছিল প্রতিবেশীদের ক্রোধ , উপদেশ ও বক্রোক্তি। রাগ করে খাবার দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলাম। গতকাল রাতে দেখি এরা দুজন তিনতলার একটি ঘরে খাটের ওপর কামড়াকামড়ি করে পরস্পরকে সোহাগ বিনিময় করছে। সমস্ত ঘর লন্ডভন্ড অবস্থা।দেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে বনদফতরে খবর দিয়েছিলাম। জানি এদের কোনো দোষ নেই, আমরা মানুষেরাই জঙ্গল সাফ করে নিজেদের বাসস্থান বানাতে গিয়ে এদের বাস্তূচ্যুত করেছি।
বেলার দিকে বনদফতরের কর্মীরা এসে অত্যন্ত সাবধানে ওদের ধরে খাঁচায় পুরে নিয়ে গেলেন। ওঁরা কথাও দিয়েছেন, ঘন জঙ্গলাকীর্ণ উপযুক্ত জায়গাতেই ওদের ছেড়ে দেওয়া হবে। ধন্যবাদ ওনাদের। ভালো থাক বিলুপ্ত হতে বসা গন্ধগোকুলেরা ।

চারঘন্টা পরে বনদফতর থেকে পাঠানো ভিডিও থেকে জানতে পারলাম, সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায়, ওদের পছন্দের পরিবেশেই, গন্ধগোকুলদুটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
