রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ হেভিওয়েট মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর । তিনি পরিবহন , জল সম্পদ ও সেচ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন । আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন । রাজ্যপালের কাছেও তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন । একইসাথে রাজ্যের মানুষের সেবা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন । বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন কিনা এখনও জানা যায়নি । তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আভাস করা গেলেও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি তারজন্য আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে । এর আগে তিনি এইচ আর বি সি অর্থাৎ হুগলি রিভার ব্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন । উল্লেখ্য , তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিধায়ক ।

ছাত্রজীবনে কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজে তাঁর রাজনীতিতে হাতেখড়ি । ২০০১ এর বিধানসভায় তিনি মুগবেড়িয়া বিধানসভা আসনে লড়াই করে পরাজিত হন । ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক লোকসভা আসনে তৎকালীন হলদিয়ার বেতাজ বাদশা লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে লড়াই করে পরাজিত হন । ২০০৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে কাঁথি দক্ষিণ আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করে জয়ী হন । উল্লেখ্য , পিতা শিশির অধিকারী পুত্র শুভেন্দু অধিকারীকে কাঁথি দক্ষিণের নিরাপদ আসন ছেড়ে দিয়ে এগরা গিয়েছিলেন লড়াই করতে । পিতা-পুত্র উভয়েই জয়ী হন । গত কয়েকটি বছর দেখা গিয়েছে হলদিয়ার বেতাজ বাদশা বনাম কাঁথির যুবরাজের সেয়ানে সেয়ানে টক্কর । এরপরেই শুরু হয় বিখ্যাত নন্দীগ্রাম আন্দোলন । আন্দোলনে শুভেন্দু অধিকারী একেবারে রণভূমিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং এর পরেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দ্রুত উত্থান হয় । ২০০৯ এর লোকসভা নির্বাচনে তমলুক আসনে লক্ষ্মণ শেঠকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন । ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর নেতৃত্বে সবকটি আসন তৃণমূল জয়লাভ করে । ২০১৪ র লোকসভা নির্বাচনে তমলুক লোকসভা আসনে তিনি জয়লাভ করেন । ২০১৬ র বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী হন এবং ওই নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম আসনে দাঁড়িয়ে জয়লাভ করেন । নন্দীগ্রামের শহীদ জননী এবং ওই আসনের বিধায়ক ফিরোজা বিবিকে পাঁশকুড়া পশ্চিম আসন থেকে জিতিয়ে নিয়ে আসেন । এরপর, তমলুক লোকসভা উপনির্বাচনে নিজের সহোদর দিব্যেন্দু অধিকারীকে দাঁড় করিয়ে বিপুল ভোটে জিতিয়ে নিয়ে আসেন । ২০১১ র বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুরে সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি জোর লড়াই করেন শুভেন্দু অধিকারী এবং জেলার ১৯ টি আসনের মধ্যে ১০ টি আসনে তৃণমূল জয়ী হয় । তিনি আরামবাগ মহকুমার সন্ত্রাস কবলিত আসনগুলোতেও জোর লড়াই করেছিলেন । ২০০৮ এর পঞ্চায়েত নির্বাচনে পূর্ব মেদিনীপুরে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বামফ্রন্টকে জোর ধাক্কা দেয় এবং জেলা পরিষদ দখলসহ অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত , পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে তৃণমূল । এছাড়া , হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তিনি চেয়ারম্যান । এইচ আর বি সির অর্থাৎ হুগলি রিভার ব্রিজ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান থেকে তিনি ইস্তফা দিলেন গতকাল । ২০২০এর ২৭ শে নভেম্বর রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন শুভেন্দু অধিকারী । আগামী রাজনৈতিক কর্মপন্থা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকদিন ।
