১৯২১ সালে বিজ্ঞানী বেন্টিং ও তার ছাত্র চার্লস বেস্ট ইনসুলিন আবিষ্কার করেন। এটিকে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করতে কানাডার টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বিজ্ঞানী ম্যাকলিওড তার ছাত্র কলিপকে দিয়ে ইনসুলিন বায়োক্যামিক্যাল পিউরিফিকেশন করিয়ে সর্বপ্রথম ১৪ বছর বয়সী এক মৃত্যুপথযাত্রী কিশোর লিওনার্ড থম্পসনের দেহে প্রয়োগ করে তার জীবন রক্ষা করেন। যদিও মূল গবেষণাটি করেন তাদের দুজন ছাত্র চার্লস বেস্ট ও জেমস কলিপ। একটি কুকুরকে দিয়ে তাঁরা সফল পরীক্ষাটি সর্বপ্রথম চালিয়েছিলেন।
এটি এতটাই যুগান্তকারি ছিল যে মাত্র দুবছরের মাথায় ১৯২৩ সালে এই আবিষ্কারের জন্য ড. বেন্টিং ও ড. ম্যাকলিওডকে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু আসল কাজটি অর্থাৎ মূল গবেষণাটি করেছিলেন তাঁদের ঐ দুই ছাত্র। কিন্তু ছাত্রাবস্থায় থাকার কারণে তাঁদের নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়নি। পরে অবশ্য নোবেল পুরষ্কার থেকে প্রাপ্ত অর্থমূল্য চারজনে ভাগ করে নেন।
এই বছর, ২০২১ সেই যুগান্তকারী আবিস্কারের শতবর্ষ। বহু যুগান্তকারী আবিষ্কারের মধ্যে একটি এই ইনসুলিনের আবিস্কার। বহু মানুষকে অকাল মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে এনেছে এই ইনসুলিন। তবুও দুঃখের বিষয় এই যে এখনও অনেক শিশু-কিশোর টাইপ-১ ডায়াবেটিসের কবলে মারা যাচ্ছে কেবলমাত্র বিশ্বজনীন পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহের অভাব এবং অবশ্যই অতিরিক্ত দাম হওয়ার কারণে ।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা যেটা চেষ্টা করছেন ইনসুলিন প্রতিদিন শরীরে ইনজেক্ট করার পরিবর্তে যদি ওরাল অর্থাৎ মুখে খাওয়ার ব্যবস্থা করা যায় ।