‘অনল নিল প্রাণ ‘। একটি হিন্দী সিনেমা হয়েছিল। আদমী আউর আউরত। পরিচালক তপন সিনহা। বইটি পুরষ্কার পেয়েছিল, আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড।

পুরষ্কার মঞ্চে নায়িকা উপস্থিত থাকতে পারেন নি। তখন তিনি অনেক দূরে,জানতেও পারেননি নি হয়তো এই সম্মানের কথা ।

১৯৮৫ সাল। আজকের দিনটাইতো ! ২২শে জুলাই।

কোলকাতায় ছটফট করছে গত ১০ দিন ধরে, একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এক সুকন্যা যুবতী।

প্রতিভাময়ী নারী । থার্ড ডিগ্ৰী পোড়া শরীর নিয়ে যন্ত্রনাকাতর তার শরীর ও মন । সে কিন্তু হাসপাতাল থেকে আর বাড়ি ফিরতে পারেনি।

বাবা ছিলেন সুচিত্রা সেনের পার্সোনাল মেক-আপ ম্যান নীলাঞ্জন রায়চৌধুরী।

বাবা থাকতেন দমদমের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত উদ্বাস্তু কলোনীতে । যোগাযোগ ছিল টালীগঞ্জে।চেষ্টা চরিত্র করে মেয়েকে রূপোলী পর্দায় নিয়ে এলেন তদ্বির ও খোসামুদি করে। তিনি ১৯৫৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। কিশোর বয়সে নৃত্যশিল্পী ছিলেন ৷ ১৯৭৩ সালে  ছায়াছবিতে প্রথম অভিনয় করেন ৷

এক নতুন যুগের সৃষ্টি হল । দুরন্ত অভিনয় , মিষ্টি মুখশ্রী । মানুষের অফুরন্ত উৎসাহ ও ভালোবাসা অর্জন করলো । অল্পবয়সী মেয়েটি তখন মাত্র ১৫ অতিক্রম করেছে ।

শমিত ভঞ্জ,সন্তু মুখার্জি, প্রসেনজিত চ্যাটার্জী, রঞ্জিত মল্লিক,অনুপ কুমার,তাপস পাল,দীপংকর ও উত্তম কুমার সকলের সঙ্গেই তার স্ক্রীনে দাপিয়ে অভিনয় ।

ভারতের বিখ্যাত ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড তিনি পেলেন দাদার কীর্তি ছবিতে । ১৯৭২-৯২ অবধি রিলিজ হওয়া ৭৫ টি ছবিতে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি।

জন্ম ১৯৫৮, ২৪ শে সেপ্টেম্বর। মাত্র ২৭ বছরে জন্মদিন হওয়ার আগেই তার চির বিদায়। সেই নক্ষত্র হবার স্বপ্ন তাকে নিয়ে গেল নক্ষত্র লোকে , ব্রহ্মান্ডলোকে । আজকের দিনে ।২২শে জুলাইয়ে তার চলে যাওয়ার দিন । ১৯৮৬ সালে ২২ জুলাই সন্তানের জন্য খাবার গরম করতে গিয়ে অগ্নি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৷

অতি অল্পবয়সে বিবাহ তার, তিলক চক্রবর্তী উঠতি নায়কের সঙ্গে। সুখের হয়নি সেই সংসার একেবারেই ।

একমাত্র সন্তান তমাল তখন অবোধ বালক সাত বছর বয়স কিছুই বোঝেনা । মায়ের চলে যাওয়ার গভীর শোক তাকে ছুঁতে পারেনি ।
এই তো আমাদের জীবনের রহস্য !

কোনো পুলিশ বা প্রশাসন কেউই আমাদের আজও জানাতে পারলোনা আগুনে পুড়ে কেন এই মর্মান্তিক মৃত্যু !

পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেও (১৯৮৫তে প্রয়াণ) তাকে আমরা বহুবার দেখেছি পর্দায় ১৯৯২ অবধি , এখনো দেখি , বারবার দেখি ।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার – সুব্রত লাহিড়ী ।